কুড়িগ্রামে বৃদ্ধ বাবাকে ৩ বছর ঘরে অবরুদ্ধ, যেতে পারেনি স্ত্রীর জানাজায়ও
শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬ ১:৫৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ও আলোচিত ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এক বৃদ্ধ বাবাকে দীর্ঘদিন ধরে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে বড় ছেলের বিরুদ্ধে।
একই সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রীর জানাজা ও দাফনেও ওই বৃদ্ধকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের নাককাটি গ্রামের আব্দুল জলিল (৭৫) ও তার স্ত্রী মাহমুদা বেগম (৬৫)-এর তিন মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। মেয়েরা বিবাহিত এবং আলাদা থাকেন। বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ (৪৬) কৃষিকাজ করেন এবং ছোট ছেলে মোস্তফা (৩৫) বরগুনা জেলায় শিক্ষকতা করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ছোট ছেলে কর্মস্থলে থাকার সুযোগে বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ প্রায় ১৪ একর জমি বাবার কাছ থেকে নিজের নামে কবলা করে নেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাবাকে ঘরে আটকে রাখেন বলেও দাবি করেছেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃদ্ধা মাহমুদা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়লে মেয়েরা তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। গত ৩ জুন রাতে তিনি মারা যান। পরদিন ৪ জুন সকালে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হলে বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ এতে বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে তিনি বৃদ্ধ বাবা আব্দুল জলিলকে ঘরে তালাবদ্ধ করে স্ত্রীর জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে বাধা দেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত দাফন সম্পন্ন করা হয়। পরে খবর পেয়ে রাজারহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশের হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিন ধরে ঘরে অবরুদ্ধ থাকা বৃদ্ধ আব্দুল জলিলকে উদ্ধার করা হয়। পরে দাফনের প্রায় চার ঘণ্টা পর তিনি তার ছেলে আব্দুল মোন্নাফকে সঙ্গে নিয়ে স্ত্রীর কবর জিয়ারত করেন।
রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ জানান, পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি জানার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সমাধান করে।
১৭৭ বার পড়া হয়েছে