রংপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে থানায় নির্যাতন, ৫ পুলিশ সদস্য ক্লোজড
বৃহস্পতিবার , ৪ জুন, ২০২৬ ১২:১৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রংপুর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাকিবকে থানার ভেতরে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি বুধবার গভীর রাতে ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ওসি আজাদ রহমান, ডিউটি অফিসার মেহেরুন নেছা, এসআই মাসুদ রানা, নারী কনস্টেবল লিমা সরেন ও কনস্টেবল বাসুদেবকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। মামলা হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড়ে বিএনপির কার্যালয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাকারিয়া ইসলাম জিম এবং মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম জুয়েল।
সংবাদ সম্মেলনে জাকারিয়া ইসলাম জিম অভিযোগ করেন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাকিবের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একইসঙ্গে দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।
অপরদিকে মহানগর যুবদলের নেতা জহির আলম জুয়েল বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা পূর্বের মামলার কারণে কারও সঙ্গে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
ঘটনার পর রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ একটি তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নরেশ চন্দ্র চাকমাকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মোশারফ হোসেন এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী পুলিশ কমিশনার সুকুমার রায়।
রাকিব দাবি করেন, বুধবার রাতে একটি প্রেমিক যুগলকে থানায় আনার ঘটনা জানতে তিনি থানায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি ওই যুগলকে মারধরের ঘটনা দেখতে পান এবং এর প্রতিবাদ করেন। এরপর ওসি আজাদ রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, তাকে কিল-ঘুষি, লাথি ও রাইফেলের বাট দিয়ে আঘাত করা হয়, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ওসি আজাদ রহমান রাকিবকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে একটি প্রেমিক যুগলকে থানায় আনা হয়েছিল। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে রাকিবের শরীরে আঘাতের চিহ্ন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।
১৪৫ বার পড়া হয়েছে