অশ্রুসিক্ত বিদায়ে জন্মভূমি ভোলায় চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ
মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬ ২:১০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশের বর্ষীয়ান রাজনীতিক, সাবেক মন্ত্রী ও ভোলা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ-কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে তার জন্মভূমি ভোলায় দাফন করা হয়েছে।
মঙ্গরবার (২ জুন) দুপুর ১টা ৩৪ মিনিটে তার মরদেহবাহী হেলিকপ্টার ভোলা হেলিপ্যাডে পৌঁছায়। সকাল থেকেই সেখানে হাজারো মানুষ জড়ো হন প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখতে। পরে মরদেহ নেওয়া হয় ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ-এ, যেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুমের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। জানাজার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা শোকের আবহে ছেয়ে যায়।
সেখানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
পরে মরদেহ নেওয়া হয় সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোরালিয়া গ্রামে তার নিজ বাড়িতে। পথে বাংলাবাজার এলাকায় তার প্রতিষ্ঠিত বৃদ্ধাশ্রমে কিছু সময়ের জন্য মরদেহ রাখা হয়। সেখানে অবস্থানরত প্রবীণ বাসিন্দারা গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে তাকে শেষ বিদায় জানান।
কোরালিয়া গ্রামে তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবা ও স্ত্রীর কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে তোফায়েল আহমেদ দেশের রাজনীতি, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ভোলা জেলার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে তার অবদান স্থানীয়দের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করেন এলাকাবাসী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য একটি বড় ক্ষতি। তবে শেষ বিদায়ে ভোলাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও আবেগঘন শ্রদ্ধা প্রমাণ করেছে যে তিনি শুধু একজন রাজনীতিকই নন, মানুষের হৃদয়ের একজন আপনজন ছিলেন।
উল্লেখ্য, রবিবার (১ জুন) বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ঢাকায় তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
১৪৪ বার পড়া হয়েছে