আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম, বগুড়ায় সাধারণের মধ্যে উদ্বেগ
মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬ ৫:২৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশে আবারও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে সরকার। নতুন ঘোষণায় পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
তবে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে বগুড়ার সাধারণ মানুষ, পরিবহন চালক এবং মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সরকারি ঘোষণার অনুযায়ী, ১ জুন থেকে অকটেনের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা। অন্যদিকে ডিজেল আগের মতোই প্রতি লিটার ১১৫ টাকা দরে বিক্রি হবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকে বগুড়া শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে নতুন দামে জ্বালানি বিক্রি শুরু হয়। এ সময় অনেক গ্রাহক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালকদের অভিযোগ, গত কয়েক মাসে একাধিকবার জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তারা মনে করছেন, এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর পড়বে।
চাকরিজীবী ও ভোক্তাদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি শুধু পরিবহন ব্যয়ই বাড়ায় না, বরং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধিরও অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পরিবহন খরচ বেড়ে গেলে কৃষিপণ্য, খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়।
এদিকে পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চালকদের আশঙ্কা, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে যাত্রী ভাড়া বাড়ানোর চাপ তৈরি হতে পারে। তবে যাত্রীদের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে বলে তারা মনে করেন।
অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক বাজার ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি আনা হয়েছিল। মে মাসে দাম অপরিবর্তিত থাকলেও জুন মাসের শুরুতেই আবারও মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা এলো। ফলে গত দেড় মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয় দফা জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়।
নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে বাজারে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে বলেও মনে করছেন অনেক ভোক্তা।
১৪৬ বার পড়া হয়েছে