কুড়িগ্রামে চরাঞ্চলের উন্নয়নে পৃথক মন্ত্রণালয় ও বিশেষ বাজেটের দাবি
সোমবার, ১ জুন, ২০২৬ ৯:৫৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
চরাঞ্চলের মানুষের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পৃথক চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন এবং চরবাসীর জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ।
একই সঙ্গে নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) সকালে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশের শতাধিক উপজেলার প্রায় দুই কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নদীভাঙনের প্রভাবের মুখে রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও পরিকল্পনার অভাবে চরাঞ্চলের মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় চরাঞ্চলের জন্য বিশেষায়িত সরকারি উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রয়োজন।
সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু লিখিত বক্তব্যে বলেন, কুড়িগ্রাম দেশের অন্যতম বৃহৎ চরাঞ্চল অধ্যুষিত জেলা। জেলায় প্রায় ৪০০টি চর রয়েছে, যার মধ্যে আড়াই শতাধিক চরে মানুষের বসবাস। এসব এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, দারিদ্র্য, যোগাযোগ সংকট এবং মৌলিক সেবার অভাবে নানা দুর্ভোগের মধ্যে জীবনযাপন করছেন।
সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে কুড়িগ্রামে নদীভাঙনের কারণে প্রায় এক লাখ মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে হাজারো পরিবারের বসতভিটা, কৃষিজমি এবং জীবিকার উৎস। এর ফলে অনেক পরিবার শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর তথ্য অনুযায়ী প্রতিবছর ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে কুড়িগ্রাম জেলার অন্তত পাঁচ হাজার পরিবার অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের শিকার হয়। এছাড়া গত পাঁচ বছরে নদীভাঙনের কারণে প্রায় দুই হাজার পরিবার স্থায়ীভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানান্তরিত হয়েছে।
বক্তারা চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নদীভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক রুবেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাঈয়েদ আহমেদ বাবুসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা। এ সময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
১৭১ বার পড়া হয়েছে