শমশের নগর সরকারি ডিগ্রি কলেজে পদ সৃজন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ
সোমবার, ১ জুন, ২০২৬ ৬:৫৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার শমশের নগর সরকারি ডিগ্রি কলেজে (সাবেক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেমোরিয়াল সরকারি মহাবিদ্যালয়) শিক্ষক পদ সৃজনকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রতারণার মাধ্যমে পদ অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সাবেক উপ-সচিব ও যুগ্ম-সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়) শেখ মোমেনা মনি, কলেজের অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কলেজটি ১১ আগস্ট ২০২১ সালে সরকারিকরণ করা হয়। এরপর শিক্ষক ও কর্মচারীদের আত্তীকরণের লক্ষ্যে পদ সৃজনের কার্যক্রম শুরু হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কলেজটি পরিদর্শনের পর ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে একটি প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে পাঠায়।
পরবর্তীতে পদ সৃজন সংক্রান্ত বিষয়ে মাউশি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কলেজ) মো. ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, তৎকালীন অধ্যক্ষ সফিকুল ইসলামকে ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক (নন-ক্যাডার) পদে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দর্শন বিভাগের পদ সৃজনের ক্ষেত্রে শিক্ষক তালিকায় নাসরিন নাহারকে প্রথম, আসমা আক্তারকে দ্বিতীয় এবং মাসুদ করিমকে তৃতীয় স্থানে রাখা হয়। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মারুফকে উপেক্ষা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নাসরিন নাহারের বিরুদ্ধে জাল সনদ এবং অন্য এক শিক্ষকের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
জানা যায়, মাউশি বিভাগ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে ৫৩টি পদ সৃজনের প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ১৭ মে ২০২৩ তারিখে আত্তীকরণের লক্ষ্যে সুপারিশকৃত ৫৩টি পদ অস্থায়ীভাবে রাজস্ব খাতে সৃজনের বিষয়ে সম্মতি প্রদান করে।
তবে অভিযোগকারীদের দাবি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পত্রে অধ্যক্ষ পদের উল্লেখ না থাকলেও পরবর্তীতে ওই পদ সৃজন করা হয়। এছাড়া দর্শন বিষয়ের কয়েকটি পদেও অনিয়মের মাধ্যমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, কলেজের অধ্যক্ষ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তার মধ্যে যোগসাজশের মাধ্যমে এসব পদ সৃজন করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, নাসরিন নাহারের বিরুদ্ধে জাল সনদের অভিযোগে এখনো কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছিল।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, পুরো ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে বিভাগীয় তদন্তের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে সংযুক্ত করা হবে।
২২৪ বার পড়া হয়েছে