নাফ নদী সীমান্তে সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর গুলিবর্ষণ, নৌকা ছিনতাই; আটক দুই
রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬ ২:৪৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তবর্তী নাফ নদীতে সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর ধাওয়া, গুলিবর্ষণ এবং একটি নৌকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি অভিযান চালিয়ে দুই রোহিঙ্গাকে আটক করেছে। প্রাথমিক তদন্তে আটক ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (৩১ মে) বিকেলে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধীনস্থ হ্নীলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার চর কাব্যিক সংলগ্ন নাফ নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি সূত্র জানায়, বিকেল পৌনে ৬টার দিকে দুই রোহিঙ্গাকে বহনকারী একটি নৌকা সুলিশপাড়া বেড়িবাঁধ সংলগ্ন স্লুইসগেট এলাকার দিকে যাচ্ছিল। এ সময় পেছন থেকে আরেকটি নৌকায় থাকা তিনজনের একটি সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠী তাদের ধাওয়া করে। একপর্যায়ে ধাওয়া করা নৌকা থেকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। তবে নৌকাটি না থামালে সশস্ত্র গোষ্ঠী একটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
হঠাৎ গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে নৌকায় থাকা দুই ব্যক্তি নাফ নদীতে ঝাঁপ দেন। এ সময় এলাকায় দায়িত্ব পালনরত বিজিবির একটি নিয়মিত টহল দল ঘটনাস্থলের দিকে দ্রুত এগিয়ে যায়। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ধাওয়া করা নৌকাটি দ্রুত নাফ নদীর ভেতরের দিকে সরে যায়।
বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া দুই রোহিঙ্গাকে আটক করে নিরাপদে নিয়ে আসে। পরে তাদের পরিচয় যাচাই করে জানা যায়, তারা কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫ এবং জোহাত ক্যাম্প-৪-এর বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে সুলিশপাড়া বেড়িবাঁধ এলাকায় বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী ও স্থানীয় মানুষ অবস্থান করছিলেন। এ কারণে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিজিবি শুরুতে তাৎক্ষণিক পাল্টা গুলি চালানো থেকে বিরত থাকে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর দেখা যায়, সশস্ত্র গোষ্ঠীর নৌকাটি সুলিশপাড়া এলাকা অতিক্রম করে পুনরায় চর কাব্যিকের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তখন বিজিবি তাদের ধাওয়া করে এবং সতর্কতামূলকভাবে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে চর কাব্যিকের গহীন অংশে পালিয়ে যায়।
ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ধাওয়া করা গোষ্ঠীর সদস্যরা আটক ব্যক্তিদের নৌকা থেকে জালসদৃশ কিছু সামগ্রী নিজেদের নৌকায় তুলে নেয়। পরে নৌকাটি নাফ নদীর মাঝামাঝি নিয়ে গিয়ে পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আটক দুই ব্যক্তির পরিচয় হলো— কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর ব্লক-২ এলাকার বাসিন্দা জমির হোসেনের ছেলে ইমাম হোসেন এবং জোহাত রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪-এর ব্লক-বি এলাকার মো. আলীর ছেলে মো. নুরুল আমিন।
বিজিবির প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, আটক ব্যক্তিরা চর কাব্যিক এলাকায় অবস্থান করছিলেন এবং তাদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অবৈধ সীমান্তসংক্রান্ত কার্যক্রমের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় বিস্তারিত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত শেষে তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।
সীমান্ত এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, চোরাচালান এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা রোধে বিজিবি নিয়মিত নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
১৬৮ বার পড়া হয়েছে