কুড়িগ্রামের চরে আনসারী দম্পতির কোরবানি, ঈদের আনন্দ পেল শতাধিক পরিবার
শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬ ৫:১০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রামের দুর্গম চরাঞ্চলে এবার ঈদুল আজহার আনন্দ পৌঁছে দিলেন এক মানবিক দম্পতি। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান আনসারী ও অ্যাডভোকেট নূর উন নাহার আনসারীর উদ্যোগে দুটি গরু কোরবানি দিয়ে শতাধিক অসচ্ছল পরিবারের মধ্যে মাংস বিতরণ করা হয়েছে।
ঈদের দিন মেকুরের আলগা ও সাহেবের আলগায় কোরবানি করা গরুর মাংস বিতরণ করা হয় মেকুরের আলগা, জাহাজের আলগা, চেরাগের আলগা, সাতাশ দাগ, সাহেবের আলগার আইরমারির চর ও বালাডোবার চরসহ বিভিন্ন এলাকার তিন শতাধিক পরিবারের মাঝে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদীভাঙন, বন্যা ও দারিদ্র্যের কারণে এসব চরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কোরবানি দিতে পারেননি। অনেক পরিবার ঈদের দিনেও গরুর মাংস খাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকে। কোথাও একটি ছাগল কোরবানি হয়েছে, আবার কোথাও সেটিও হয়নি। অনেকে সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে ব্রয়লার মুরগি রান্না করেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে আনসারী দম্পতির দেওয়া কোরবানির মাংস পেয়ে খুশি চরবাসী। পরিবারপ্রতি এক কেজি করে মাংস বিতরণ করা হয় বলে জানান স্থানীয়রা।
বতুয়াতলি গ্রামের বাসিন্দা মো. সুরুতজামাল বলেন, “নদীভাঙনে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। ঈদের দিনেও কোনো আনন্দ ছিল না। এবার অন্তত বাচ্চাদের মুখে গরুর মাংস তুলে দিতে পারছি।”
বালাডোবার চরের বাসিন্দা মজিবর রহমান বলেন, “চরে অনেক পরিবার কোরবানি দিতে পারেনি। আনসারী পরিবারের দেওয়া গোশত পেয়ে মনে হয়েছে, ঈদের আনন্দ এখনও গরিব মানুষের কাছেও পৌঁছায়।”
স্থানীয় সূত্র জানায়, কুড়িগ্রামের বিভিন্ন চরে লাখো মানুষের বসবাস। অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ, মাছ ধরা কিংবা দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অর্থকষ্টের কারণে কোরবানি অনেক পরিবারের জন্য স্বপ্নই থেকে যায়।
বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বাবলু মিয়া বলেন, “চরের দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আনসারী দম্পতি যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে অসহায় মানুষের ঈদ আরও আনন্দময় হতে পারে।”
মো. আসাদুজ্জামান আনসারী বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে আমরা চরাঞ্চলের অসহায় মানুষের জন্য কোরবানির আয়োজন করে আসছি। ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “কোরবানির মূল উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। পাশাপাশি প্রকৃত অভাবী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে ভালো লাগে।”
ঈদের সেই দুপুরে চরাঞ্চলের অনেক ঘরে যখন রান্না হচ্ছিল গরুর মাংস, তখন শিশুদের মুখে ফুটে উঠেছিল ঈদের সত্যিকারের আনন্দ।
১৯৭ বার পড়া হয়েছে