সর্বশেষ

সারাদেশ

ঢাকায় কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে খামারে ফিরল ‘ভয়ঙ্কর’ ও ‘বাদশা বাবু’

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬ ৯:৩২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
চার বছরের পরিশ্রম, যত্ন আর স্বপ্নের বিনিয়োগ—সবকিছুই ঘিরে ছিল দুটি বিশাল আকৃতির ষাঁড়কে নিয়ে। খামারির আশা ছিল ঈদুল আজহায় রাজধানীর হাটে ভালো দামে বিক্রি করে ঘুরে দাঁড়াবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় ঢাকার পশুর হাট থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ‘ভয়ঙ্কর’ ও ‘বাদশা বাবু’ নামের দুটি ষাঁড়কে।

পটুয়াখালীর মহিপুর থানার সদর ইউনিয়নের শিববাড়িয়া গ্রামের গাববাড়িয়া এলাকায় গড়ে ওঠা খামার এখন আনন্দের বদলে হতাশার ভারে নুয়ে পড়েছে। খামারি ইব্রাহিম হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে নিজের সন্তানের মতো করেই লালন-পালন করেছেন এই দুটি গরু।

খামার সূত্রে জানা যায়, ফ্রিজিয়ান জাতের প্রায় ১৮ মণ ওজনের ‘ভয়ঙ্কর’ ষাঁড়টির জন্য দাম ধরা হয়েছিল ৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে শাহিওয়াল জাতের প্রায় ১৭ মণ ওজনের ‘বাদশা বাবু’র দাম চাওয়া হয়েছিল ৭ লাখ টাকা। দুটি গরুর মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১৬ লাখ টাকা।

খামারি ইব্রাহিম হাওলাদার জানান, চার বছরের লালন-পালন, খাবার ও চিকিৎসায় তার প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তিনি বলেন, ভালো দামের আশায় ধারদেনা করে গরু দুটি ট্রাকে করে ঢাকার হাটে নেওয়া হলেও প্রত্যাশিত ক্রেতা পাওয়া যায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে আবার খামারে ফিরিয়ে আনতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “আমরা গরু দুটিকে পরিবারের সদস্যের মতো বড় করেছি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার—ঘাস, ভুট্টার সাইলেজ, খড় ও ভুষি খাইয়ে লালন করেছি। কিন্তু বাজারে যে দাম পাওয়া গেছে, তাতে মূলধনও উঠছিল না।”

খামারের কর্মচারী সোলায়মান খান জানান, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও যত্নের পরও বিক্রি না হওয়ায় তারা হতাশ। তাঁর ভাষায়, “দিন-রাত পরিশ্রম করে গরু বড় করেছি। এখন মনে হচ্ছে সব শ্রমই বৃথা গেল।”

এদিকে ঢাকার হাট থেকে ফিরিয়ে আনা বিশাল আকৃতির দুটি ষাঁড় দেখতে স্থানীয়দের ভিড় বাড়ছে খামারে। অনেকে ছবি তুলছেন, আবার অনেকে খামারির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা হাবিব সরদার ও সাইদুর রহমান বলেন, এলাকার জন্য এই দুটি গরু ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তবে বাজার পরিস্থিতির কারণে ন্যায্য দাম না পাওয়াটা দুঃখজনক।

পশু চিকিৎসক আহসান হাবিব জানান, গরু দুটি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং প্রাকৃতিক উপায়ে লালন করা হয়েছে। তবে এ বছর বড় আকারের গরুর বাজার তুলনামূলক মন্দা থাকায় কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা পাওয়া যায়নি।

ঈদের আনন্দের মধ্যেও এখন এই খামারির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ধারদেনার চাপ এবং দুটি বিশাল ষাঁড়ের দৈনন্দিন ভরণপোষণের খরচ। ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

১৮৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন