সর্বশেষ

সারাদেশ

মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেও শোলাকিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ১৯৯তম ঈদ জামাত

শাহজাহান সাজু, কিশোরগঞ্জ
শাহজাহান সাজু, কিশোরগঞ্জ

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬ ৮:৪৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই অনুষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহার ১৯৯তম জামাত। বৈরী আবহাওয়া ও কাদামাখা মাঠ সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা হাজারো মুসল্লি জামাতে অংশ নেন।

ঈদের দিন সকাল থেকেই আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। জামাত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নামে ভারী বৃষ্টি। তবে বৃষ্টি মুসল্লিদের উপস্থিতিতে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। অনেকে ছাতা, রেইনকোট ও প্লাস্টিকের আবরণ ব্যবহার করে মাঠে অবস্থান নেন। ভেজা মাঠে কাদা জমলেও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের আগমন অব্যাহত ছিল।

সকাল ৯টায় জামাত শুরু হয়। এতে ইমামতি করেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী, জামাত শুরুর আগে শর্টগানের ফাঁকা গুলির মাধ্যমে মুসল্লিদের সংকেত দেওয়া হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে জায়নামাজ ও মোবাইল ফোন ছাড়া অন্য কোনো সামগ্রী মাঠে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

২০১৬ সালের হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এবারও শোলাকিয়া ঈদগাহে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। মাঠ ও আশপাশ এলাকায় মোতায়েন ছিল বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব, আর্মড পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে ছিলেন। এছাড়া বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট মাঠ তল্লাশি করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। পুরো এলাকায় স্থাপন করা হয় সিসিটিভি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ার।

বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে চালু করা হয় দুটি বিশেষ ট্রেন। একটি ভৈরব থেকে এবং অন্যটি ময়মনসিংহ থেকে শোলাকিয়াগামী মুসল্লিদের বহন করে।

জামাতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মোজহারুল ইসলামও জামাতে উপস্থিত ছিলেন।

ময়মনসিংহের নান্দাইল থেকে আসা মুসল্লি মো. আলাউদ্দিন জানান, দীর্ঘ ১২ বছর ধরে তিনি শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ আদায় করছেন। বৃষ্টি থাকলেও তিনি এবারও জামাতে অংশ নিতে এসেছেন। অন্যদিকে কুলিয়ারচরের আলী আকবর বলেন, শোলাকিয়ায় নামাজ আদায়ের অনুভূতি সবসময়ই বিশেষ।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। মুসল্লিদের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে জামাত সম্পন্ন হয়েছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।

কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব পাশে নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ১৭৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। জনশ্রুতি রয়েছে, ১৮২৮ সালে এখানে একসঙ্গে সোয়া লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই থেকেই এর নাম হয় ‘শোলাকিয়া’।

২০১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন