ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত্যু ৪১
বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬ ৬:১৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে গত ১৭ মার্চ থেকে শুরু হওয়া পরিস্থিতিতে হাসপাতালে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ জনে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের সংখ্যা ক্রমাগত ওঠানামা করছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
বুধবার (২৭ মে) সকাল ১০টায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার জানান, সর্বশেষ মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে একজনের বয়স ১৭ মাস। সে ২০ মে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। শিশুটি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বাসিন্দা।
অপরদিকে, পাঁচ মাস বয়সী আরেক শিশুও হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ মে হাসপাতালে ভর্তি হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই দিন রাতে তার মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি। শিশুটি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বাসিন্দা।
তিনি আরও জানান, মৃত শিশুদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে সরাসরি যোগাযোগের তথ্য প্রদান করা হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মার্চ থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ৬২৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৩৫ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৪ জন শিশু ভর্তি হয়েছে এবং ২৭ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে। বর্তমানে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৪৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার এক শিশু রোগীর পরিবার চিকিৎসা নিতে গিয়ে নানা জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় বলে জানা গেছে। পরিবারের দাবি, শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। পরবর্তীতে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
শিশু হারানোর বেদনায় পরিবারটি শোকাহত হয়ে পড়ে। তারা জানান, উন্নত চিকিৎসা সুবিধা, বিশেষ করে আইসিইউ সাপোর্ট থাকলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।
হাসপাতাল পরিদর্শনে দেখা যায়, সংকটপূর্ণ অবস্থায় কিছু শিশু রোগীকে উন্নত শ্বাস-প্রশ্বাস সহায়তা দেওয়ার জন্য বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে বাবল সিপ্যাপ (Bubble CPAP) ব্যবহার করা হচ্ছে।
হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ও আইসোলেশন ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক মাজহারুল আমিন বলেন, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী বাবল সিপ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি সরকারিভাবে সরবরাহ করা এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করছেন।
বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে শিশু রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
১৪৬ বার পড়া হয়েছে