খাগড়াছড়িতে মারমা সম্প্রদায়ের মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন
রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬ ১২:১১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মারমা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও সাম্প্রদায়িক উসকানি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে মারমা সম্প্রদায়।
রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাব হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রধান সমন্বয়ক রুমেল মারমা।
তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সম্প্রীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের মারমা জনগোষ্ঠী যুগ যুগ ধরে শান্তিপ্রিয় জীবনযাপন করে আসছে। স্বাধীনতা, সম্প্রীতি ও সামাজিক সহাবস্থানের প্রশ্নে মারমা জনগোষ্ঠী সবসময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। দেশের সার্বভৌমত্ব, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাদের অবদান সর্বজনস্বীকৃত।
তিনি আরও বলেন, খাগড়াছড়িতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে পার্বত্য চট্টগ্রামের বৃহত্তর মারমা সংগঠন “বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদ” দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছে। উক্ত সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান বাবু থ্রাসাথোয়াই মারমা সর্বদা শান্তি, সহাবস্থান এবং উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন। বর্তমানেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করার অপচেষ্টায় একটি কুচক্রী মহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকায় বসবাসরত আবুল হোসেন ফারুক (ফেসবুক আইডি: এ এইচ এম ফারুক), পিতা মৃত হাবিবুর রহমান, সাং ফাতেমা নগর, পানছড়ি, খাগড়াছড়ি—তিনি ধারাবাহিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মারমা জনগোষ্ঠী ও তাদের নেতৃবৃন্দকে জড়িয়ে মিথ্যা, বানোয়াট, উসকানিমূলক ও বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, তার ফেসবুক টাইমলাইন ও বিভিন্ন পোস্টের মন্তব্য বিশ্লেষণ করলে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি পরিকল্পিতভাবে মারমা ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান থ্রাসাথোয়াই মারমাসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন। কুরুচিপূর্ণ, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করছেন।
সম্প্রতি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথিত “আরাকান আর্মি” নামক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সাথে খাগড়াছড়ির শান্তিপ্রিয় ও আইনমান্যকারী মারমা জনগোষ্ঠী এবং তাদের নেতৃবৃন্দকে জড়িয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। এটি শুধু মিথ্যাচার নয়, বরং রাষ্ট্রবিরোধী উসকানি এবং পার্বত্যাঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা বলে উল্লেখ করা হয়।
মারমা সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা কখনোই কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তারা বাংলাদেশের সংবিধান, আইন এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।
তবে কোনো কুচক্রী মহল বারবার মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তাদের সম্মান, আত্মমর্যাদা ও সামাজিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—আবুল হোসেন ফারুককে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে; তার অপপ্রচারের নেপথ্যে কারা জড়িত তা তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী বিভ্রান্তি ছড়ানোর দায়ে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে; এবং পার্বত্যাঞ্চলের শান্তি ও সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
তারা আরও সতর্ক করে বলেন, এসব অপতৎপরতা বন্ধ না হলে খাগড়াছড়িতে শান্তিপ্রিয় মারমা জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে “বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদ” কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।
১০৩ বার পড়া হয়েছে