খুলনায় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার আহ্বান
রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬ ১১:৩০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, মানুষের জীবন, জীবিকা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার জন্য জীববৈচিত্র্যের টেকসই উন্নয়নে সরকারকে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
রোববার (২৫ এপ্রিল) সুন্দরবন বন বিভাগ ও সুন্দরবন একাডেমির যৌথ উদ্যোগে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইমরান হোসেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ড. তুহিন রায়, মোস্তফা সরোয়ার, মোহাম্মদ আলী সনি, স্বপন কুমার গুহ এবং মোঃ নূর আলম শেখ।
স্বাগত বক্তব্য দেন ফারুক আহমেদ। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির এবং সঞ্চালনা করেন তসলিম আহমেদ টংকার।
‘বৈশ্বিক প্রভাবের জন্য স্থানীয়ভাবে পদক্ষেপ’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সভায় আরও বক্তব্য দেন এসএম সোহরাব হোসেন, প্রবীর বিশ্বাস, গাজী মনিরুজ্জামান ও দিলীপ বর্মন।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন শামিমা সুলতানা শিলু, মাহফুজুর রহমান মুকুল, আবদুস সালাম শিমুল এবং মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরী।
ইয়ুথ ফর সুন্দরবনের পক্ষে বক্তব্য দেন মোঃ নজরুল ইসলাম, তন্বী রায় এবং সলীল ঠাকুর।
অনুষ্ঠানের শুরুতে রূপান্তর থিয়েটারের পরিবেশনায় ‘বাঁচাও সুন্দরবন’ শীর্ষক পটগান পরিবেশিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইমরান হোসেন বলেন, মানুষ জীববৈচিত্র্যেরই অংশ। মানুষের বেঁচে থাকা, জীবন-জীবিকা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পরিবেশ বাস্তবতায় সুন্দরবন সবচেয়ে সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের আধার।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন মনুষ্যসৃষ্ট নেতিবাচক কর্মকাণ্ড সুন্দরবনের প্রাণী, উদ্ভিদ ও মৎস্যসম্পদের মারাত্মক ক্ষতি করছে। এ ক্ষতি প্রতিরোধে স্থানীয় উদ্যোগ ও জ্ঞানকে প্রাধান্য দিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, যুবসমাজ, গণমাধ্যম, গবেষক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ড. তুহিন রায় তাঁর মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনায় বলেন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা শুধু পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয় নয়; এটি মানুষের জীবন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা এবং দেশের টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তিনি বলেন, সুন্দরবনকে রক্ষা করা মানেই উপকূলীয় জনপদ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা।
মোস্তফা সরোয়ার বলেন, সুন্দরবনকে ঘিরে গড়ে ওঠা অনিন্দ্য সুন্দর বাস্তুতন্ত্র হাজার বছর ধরে মানুষের উপকার করে আসছে। একে রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি খুলনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কর্মসূচি গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
মোহাম্মদ আলী সনি বলেন, জীববৈচিত্র্য পৃথিবীর পরিবেশগত ভারসাম্য, মানবজীবনের নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। উদ্ভিদ, প্রাণী, অণুজীব ও তাদের পারস্পরিক সম্পর্কের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই জীববৈচিত্র্য মানুষের জীবন ও জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎস। একে রক্ষায় ব্যাপক জনসচেতনতা প্রয়োজন।
নূর আলম শেখ আসন্ন বাজেটে ‘পরিবেশ বাজেট’ নামে পৃথক বরাদ্দের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে প্রকৃতিনির্ভর সমাধানকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে প্রতিহত করার দাবি জানান তিনি। বিষ মেশানো মাছ শনাক্তে বিশেষ ‘কিট’ উদ্ভাবনেরও আহ্বান জানান এই পরিবেশকর্মী।
১২৫ বার পড়া হয়েছে