দৌলতপুরে পীর হত্যা মামলা: গ্রেপ্তার আতঙ্কে স্কুলছাত্রের আত্মহত্যা
সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬ ৮:১৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কোরআন অবমাননার অভিযোগে পরিচিতি পাওয়া পীর আব্দুর রহমান শামীম (৬৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে এক স্কুলছাত্র আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহত ওই শিক্ষার্থী স্থানীয় পিএসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্র এবং উপজেলার ফিলিপনগর এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ এপ্রিল উপজেলার ফিলিপনগরে শামীমের আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের পর তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নিহতের বড় ভাই আলিফ ইসলাম (২৩) এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই পরিবারে আতঙ্ক তৈরি হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার দিন লাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এবং বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে দরবারে উল্লাসে অংশ নেয়। পরে গ্রেপ্তার এড়াতে তাকে ঢাকার আশুলিয়ায় খালার বাসায় পাঠানো হয়।
শনিবার দুপুরে আশুলিয়া থানাধীন খালার ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে লাম। রোববার ময়নাতদন্ত শেষে রাত ১১টার দিকে ফিলিপনগরের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
নিহতের পিতা রবিউল ইসলাম বলেন, “আমার ছেলে আলিফ পীর হত্যার ঘটনায় জড়িত না, তবুও ভিডিও ফুটেজের কথা বলে তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। লাম ছোট মানুষ, ঘটনার দিন সবার সঙ্গে দেখতে গিয়েছিল। ভাই গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। ভয় ও দুশ্চিন্তা থেকেই হয়তো আত্মহত্যা করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি তো এক ছেলে হারিয়েছি। আরেক ছেলেকে যদি প্রশাসন নির্দোষ বিবেচনায় ছেড়ে দিত, তাহলে কৃতজ্ঞ থাকতাম। জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী আলিফের বয়স ১৮ বছর হলেও তাকে ২৩ বছর দেখানো হয়েছে। সে বাজারে সবজি বিক্রি করতো।”
এদিকে মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি রাজীব মিস্ত্রিকে দুই দিনের এবং বিপ্লব হোসেন (২৬) ও আলিফ ইসলামকে একদিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল ফিলিপনগর এলাকায় শামীমের আস্তানা উচ্ছেদ ও তার কার্যক্রম বন্ধ করা। তবে হামলায় অংশ নেওয়া একটি পক্ষ শুধু ভাঙচুর ও উচ্ছেদে জড়িত থাকলেও, আরেকটি পক্ষ সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।
পুলিশের দাবি, ঘটনার অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকেই হামলার পরিকল্পনা করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পুরোনো ভিডিওর অংশ ছড়িয়ে জনসাধারণকে উসকে দেওয়া হয়। এরপর উত্তেজিত জনতা শামীমের আস্তানায় হামলা চালায়। এ সময় তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পাশাপাশি চলে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ।
তদন্তের স্বার্থে অনেক তথ্য গোপন রাখা হলেও হামলায় নেতৃত্বদানকারী ও জড়িত অন্তত ৩৫ জনের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার নেপথ্যের কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, “আলিফের ছোট ভাই লামের আত্মহত্যার বিষয়টি শুনেছি। কেউ ভয় থেকে আত্মহত্যা করলে সেখানে পুলিশের কিছু করার থাকে না। তবে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় লামের সংশ্লিষ্টতা ছিল। ভিডিও ফুটেজ দেখে আলিফকেও শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
১০৮ বার পড়া হয়েছে