কুষ্টিয়া চিনিকল বেজার কাছে হস্তান্তরে তৎপরতা নেই, শিল্পপার্ক গড়ার পরিকল্পনা থমকে গেছে
শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬ ১:৫৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
প্রায় ২০০ একরের জমিতে অবস্থানরত কুষ্টিয়া চিনিকলকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) অধীনে এনে একটি আধুনিক শিল্পপার্ক গড়ার পরিকল্পনা থাকলেও, কার্যক্রম এখনো স্থবির। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঋণ পরিশোধ, জমির মূল্য নির্ধারণ এবং শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আটকে আছে।
গত ২৬ জানুয়ারি বেজার পরিচালনা পর্ষদের সভায় কুষ্টিয়া চিনিকলকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, শিল্প উপদেষ্টা ও শিল্প সচিব। বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, চিনিকলের বিদ্যুৎ, পানি, সড়কসহ অবকাঠামোগত সুবিধা ইতিমধ্যেই রয়েছে, যা নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে সহায়ক।
কুষ্টিয়া চিনিকল ১৯৬৬-৬৭ মৌসুম থেকে বাণিজ্যিকভাবে চিনি উৎপাদন শুরু করে। ১৯৭২ সালে এটি রাষ্ট্রীয়করণ করা হয়। বর্তমানে বন্ধ থাকা চিনিকলটির মোট সম্পদমূল্য ২ হাজার ১১৯ কোটি টাকা, যার অধিকাংশই জমির। ২০০১ সালের পর থেকে এটি দীর্ঘমেয়াদি লোকসান চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পুঞ্জীভূত লোকসান দাঁড়িয়েছে ৭৩৫ কোটি ৮০ লাখ টাকায়।
বেজার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করতে হলে প্রথমে নামজারি ও মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করতে হবে। তবে ঋণ ও শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত জটিলতায় কাজ স্থগিত। শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, সরকার ঋণ নিষ্পত্তি এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরই হস্তান্তর অনুমোদন করবে।
বেজার নির্বাহী সদস্য মো. নজরুল ইসলাম জানান, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা হলে সেখানে চিনিকল থাকবে না। কৃষিপ্রক্রিয়াজাত, পোশাক ও রাসায়নিক শিল্পসহ বিভিন্ন শিল্প গড়ে তোলা হবে, যা দক্ষিণবঙ্গে কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ তৈরি করবে।
১২৩ বার পড়া হয়েছে