কিশোরগঞ্জে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত ৪০ হাজার কোরবানির পশু প্রস্তুত
বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬ ৯:৪৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কিশোরগঞ্জে এবার খামার ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য প্রায় ২ লাখ গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। যা জেলার চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪০ হাজার বেশি।
অন্যান্য বছরের মতো এবারও এই অতিরিক্ত পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। খামারিদের প্রত্যাশা, এবার কোরবানির পশুর ভালো দাম পাওয়া যাবে। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের মতে, সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ায় জেলায় স্টেরয়েড ও ড্রাগমুক্ত পশু উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।
জেলার ১৩টি উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৫৪২টি পশুর খামার রয়েছে। এর মধ্যে নিবন্ধিত খামার ৩০টি। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ব্যক্তিগত পর্যায়েও গবাদি পশু পালন করেন। খামারিদের তুলনায় ব্যক্তিগত পর্যায়ে পশু পালনই বেশি হয়ে থাকে।
এবার খামার পর্যায়ে প্রায় ৩০ হাজার গবাদি পশু পালন করা হয়েছে। বাকি বড় অংশই ব্যক্তিগতভাবে লালন-পালন করা হয়েছে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে কোরবানির ঈদ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় ইতোমধ্যে হাটকে সামনে রেখে পশু কেনাবেচার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ৫২ হাজার ১৮৫টি। বিভিন্ন খামার ও বাড়িতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৪০৬টি গবাদি পশু। এর মধ্যে রয়েছে ষাঁড় ৭৫ হাজার ২৬৭টি, বলদ ৪ হাজার ১৩৪টি, গাভি ১৭ হাজার ৮৮৬টি, মহিষ ৩ হাজার ৮৩৬টি, ছাগল ৮৪ হাজার ৯৪৩টি এবং ভেড়া ৫ হাজার ২৯৮টি।
ফলে জেলায় প্রায় ৪০ হাজার পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। শেষ মুহূর্তে খামারগুলোতে কোরবানির পশুর বাড়তি পরিচর্যা চলছে। খামারিরা ভালো দাম পাওয়ার আশায় আছেন।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার খামারি আবদুল বাতেন বলেন, “গরু পালন করছি লাভের আশায়। গেল বছর গরু পালন করে লোকসান হয়েছে। এবার বাজার শুরু হলে আশা করছি ভালো দাম পাবো। এবার হয়তো লাভ হবে।”
কটিয়াদী উপজেলার খামারি জলিল মিয়া বলেন, “গরু পালন করতে অনেক খরচ হয়, ভুসির খরচসহ বিভিন্ন খরচ রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে ভুট্টা খাইয়ে গরু পালন করছি বাজারে নেওয়ার আশায়। দাম বেশি পাওয়ার আশা করছি, যদি দাম কম পাই তাহলে লোকসান হবে, কষ্ট বিফলে যাবে। যাই হোক আল্লাহ ভরসা।”
নিকলী উপজেলার খামারি খালেক মিয়া বলেন, “আমরা গরু-মহিষ একসাথে দেশি খাবার খাইয়ে পালন করছি। সামনে কোরবানি, পাইকাররা খামারে আসছে। দাম বেশি পাওয়ার আশা করছি। খামারে বিক্রি না হলে বাজারে নিয়ে যাবো।”
খামারিদের বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দেওয়ায় দিন দিন প্রাকৃতিক খাবারে রোগমুক্ত পশু উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে তারা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি দেশের চাহিদা পূরণেও অবদান রাখছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান বলেন, “আমরা খামারিদের শুরু থেকেই প্রশিক্ষণ দিয়েছি, তারা যেন গ্রোথ হরমোন, স্টেরয়েড বা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো অনিয়মিত ড্রাগ ব্যবহার না করেন। এ বিষয়ে আমরা উঠান বৈঠক করেছি, লিফলেট বিতরণ করেছি এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আশা করছি, এ বছর অতিরিক্ত পশু নিয়ে কোরবানিতে কোনো সমস্যা হবে না।”
১৪৩ বার পড়া হয়েছে