সর্বশেষ

সারাদেশ

চরাঞ্চলের হাসপাতালে ডাক্তার নেই, রোগীরা নিজেরাই নির্ধারণ করছেন ওষুধ, চরম অব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যসেবা

 আওলাদ রুবেল, ময়মনসিংহ
আওলাদ রুবেল, ময়মনসিংহ

রবিবার, ১০ মে, ২০২৬ ৬:৩৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহের চরাঞ্চলে সরকারি হাসপাতাল থাকলেও কার্যত নেই চিকিৎসাসেবা। স্বাস্থ্যসেবার উন্নতির কথা বলা হলেও দুর্গম চর এলাকায় পরিস্থিতি উল্টো—কাগজে-কলমে হাসপাতাল থাকলেও বাস্তবে চিকিৎসক সংকটে ভুগছেন হাজারো মানুষ।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পরানগঞ্জ বাজারের কাছে অবস্থিত চরাঞ্চল ২০ শয্যা হাসপাতাল-এ সরেজমিনে দেখা যায়, রোগীদের ভিড় থাকলেও চিকিৎসকের উপস্থিতি নেই। বহির্বিভাগে লাইনে দাঁড়িয়ে রোগীরা নিজেরাই জানাচ্ছেন সমস্যা, আর সেই অনুযায়ী ওষুধ তুলে দিচ্ছেন কর্মচারীরা।

অনেকে জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে বলছেন কী ধরনের ওষুধ লাগবে—প্যারাসিটামল, গ্যাসের ওষুধ, ব্যথানাশক বা চুলকানির ওষুধ। নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসক রোগী দেখে প্রেসক্রিপশন দেবেন, ফার্মাসিস্ট ওষুধ বিতরণ করবেন—কিন্তু এখানে সেই প্রক্রিয়া কার্যত অনুপস্থিত।

স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকেই লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তবে ডাক্তার না থাকায় সরাসরি “চাহিদামতো” ওষুধ দেওয়া হয়।

এক রোগী বলেন, “ডাক্তার দেহাই নাই, যা কইছি তাই ওষুধ দিছে।”

আরেকজন জানান, “সকাল ৯টায় আইছি, ডাক্তার নাই। যা চাইছি, তাই দিছে।”

হাসপাতালটি ২০০৬ সালে তিন একর জমির ওপর নির্মিত হলেও প্রায় দুই দশকেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। নারী ও পুরুষ ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার ও আবাসিক ভবন থাকলেও অধিকাংশই অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

হাসপাতালে পাঁচটি চিকিৎসক পদ থাকলেও বর্তমানে মাত্র দুজন কর্মরত আছেন বলে জানা যায়। নিয়মিত চিকিৎসক না থাকায় অন্তর্বিভাগ বন্ধ, এমনকি প্রসূতি সেবাও বন্ধ হয়ে গেছে।

ফার্মাসিস্টদের দাবি, প্রতিদিন ২৫০–৩০০ রোগী ওষুধ নেন, কিন্তু অধিকাংশই প্রেসক্রিপশন ছাড়াই নিজের সমস্যার কথা বলে ওষুধ নিয়ে যান।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ দেওয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে ভুল ওষুধ সেবন, ডোজের ঘাটতি এবং জটিল রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব হতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতাল থাকলেও চিকিৎসা না থাকায় গরিব মানুষ বাধ্য হয়ে শহরে যেতে পারেন না, ফলে অনেকেই চিকিৎসা ছাড়াই ভোগান্তিতে থাকেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনবল সংকট নিরসনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে রয়েছে এবং অনুমোদন পেলে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসক ছাড়া ওষুধ বিতরণের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

১৩০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন