গোয়াইনঘাট সীমান্তে মানবপাচারের অভিযোগ: দুর্গম পাহাড়ি রুটে নারীদের ওপর নির্যাতনের শঙ্কা
রবিবার, ১০ মে, ২০২৬ ৬:৩১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাটে মানবপাচার চক্রের সক্রিয়তা বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, দুর্গম পাহাড়ি পথ ব্যবহার করে বিশেষ করে নারীদের অবৈধভাবে সীমান্ত পার করানো হচ্ছে এবং এ সময় তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে।
অভিযোগে জানা যায়, সংঘবদ্ধ পাচারচক্রটি দরিদ্র ও অসহায় নারীদের উন্নত চাকরি ও বেশি আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলে। পরে তাদের সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ পথ দিয়ে নিয়ে গিয়ে পাহাড়ি ও নির্জন এলাকায় আটক রাখা হয়। সেখানে শারীরিক নির্যাতন, মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং অনেক ক্ষেত্রে অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, গোয়াইনঘাটের দুর্গম সীমান্ত অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই পাচারকারীদের জন্য নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ঘন জঙ্গল, পাহাড়ি এলাকা এবং নজরদারির ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে এসব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, চাকরির প্রলোভনে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে পাহাড়ি এলাকায় আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় এবং তার সবকিছু ছিনিয়ে নেওয়া হয়। কোনোভাবে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন তিনি।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং মানবপাচার চক্র শনাক্তে গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। কয়েকটি সন্দেহভাজন চক্র ইতোমধ্যে নজরদারিতে রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পাচারকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। তারা সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
গোয়াইনঘাট সীমান্তের এই পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগেই কেবল এই মানবপাচার চক্র দমন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়
১৩৫ বার পড়া হয়েছে