ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ নারী উদ্যোক্তার
শনিবার, ৯ মে, ২০২৬ ৪:২২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজশাহীতে ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে ফাঁকা চেক ও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ তুলেছেন এক নারী উদ্যোক্তা। শনিবার (৯ মে) নগরীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন উদ্যোক্তা মোছাঃ মাফরোজা বেগম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার চরবাগডাঙ্গা এলাকার মাসুদ রানা নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে ব্যবসায়িক পরিচয়ের মাধ্যমে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য বড় অঙ্কের ঋণ সুবিধা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ মে তার কাছ থেকে কয়েকটি ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো ঋণের ব্যবস্থা না করে উল্টো ওই চেক ও স্ট্যাম্প অপব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার।
মাফরোজা বেগম আরও জানান, এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৫ সালের ৮ জুলাই মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল বিকেলে মাসুদ রানা রাজশাহী সেনানিবাস মার্কেটস্থ “আর্মি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর”-এ প্রবেশ করে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং ক্যাশবাক্স থেকে টাকা নিয়ে যান। এ ঘটনায় ৬ মে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সম্প্রতি মাসুদ রানা ও তার পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে ৫৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয় উল্লেখ করে মাফরোজা বেগম বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার দাবি, হিসাব অনুযায়ী মাসুদ রানা সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পেতে পারেন। অথচ ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্প ব্যবহার করে তাকে হয়রানি ও ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে চেক জালিয়াতি ও মানহানির অভিযোগে একাধিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় তিনি বোয়ালিয়া মডেল থানার সহকারী কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, আইজিপি, আরএমপি কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করে একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে তার নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মাসুদ রানার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়, ফলে তার মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
১২৪ বার পড়া হয়েছে