সর্বশেষ

সারাদেশ

পটুয়াখালী মহিপুরে প্রবাসীর জমিতে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দখলের অভিযোগ

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

শনিবার, ৯ মে, ২০২৬ ৯:৫৭ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর মহিপুরে এক আমেরিকান প্রবাসীর ক্রয়কৃত জমিতে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দখলের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ধুলাসার ইউনিয়নের বৌলতলী গ্রামের প্রবাসী সরোয়ার খলিফার ক্রয়কৃত জমি নিয়ে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে তার নিয়োজিত বর্গা চাষী আব্দুল খালেক হাওলাদার চাষাবাদ করে আসছিলেন। হঠাৎ করে স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী মহল দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বায়না সূত্রে মালিকানা দাবি করে জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বেলাল হাওলাদার, তোফাজ্জেল খলিফা, মনির হাওলাদারসহ মোট আটজনের একটি চক্র এ ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের দাবি, তারা খবির হাওলাদারের কাছ থেকে বায়না সূত্রে জমি ক্রয় করেছেন।

সরেজমিনে জানা যায়, মহিপুর থানার ধুলাসার ইউনিয়নের বৌলতলী মৌজার ১৯৫ নম্বর এস.এ খতিয়ানে মোট ২ একর ৬৪ শতাংশ জমির রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন আব্দুল হাই চেয়ারম্যান। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী সরোয়ার খলিফার মা চাঁন ভানু ১৯৭২ সালে ১৬৩৫ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ওই জমি ক্রয় করেন।

পরে চাঁন ভানু তার ক্রয়কৃত জমির মধ্যে থেকে ১৯৭৭ সালে ১৭৮৯ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ওয়াজেদ আলী প্যাদা, কাঞ্চন আলী বেপারী, কদম আলী বেপারী ও সেকান্দার আলী বেপারীদের কাছে ৬৪ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। একই বছরে ১৭৮৮ নম্বর দলিলের মাধ্যমে আরও ২ একর জমিও তাদের নিকট বিক্রি করা হয়।

পরবর্তীতে ওই জমির মধ্য থেকে ২৭৩৭ নম্বর দলিলের মাধ্যমে পৌনে তেরাশি শতাংশ জমি চাঁন ভানু পুনরায় ক্রয় করেন। এরপর ওয়াজেদ আলী প্যাদা গংদের কাছ থেকে চাঁন ভানুর ছেলে মো. সরোয়ার উদ্দিন ১৯৮৭ সালে ২৬৩৮ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ১ একর পৌনে সতের শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরে তিনি ৩৬১৭ নম্বর দলিলের মাধ্যমে অবশিষ্ট সোয়া ছিষট্টি শতাংশ জমিও ক্রয় করেন।

পরবর্তীতে চাঁন ভানু তার ক্রয়কৃত ৮২৯ (পৌনে তেরাশি) শতাংশ জমি আব্দুল মন্নান আকনের নিকট বিক্রি করেন। এরপরও ২০০৯ সালে চাঁন ভানু ২৪৯৫ নম্বর দলিলের মাধ্যমে মোনাছেফ মুসুল্লীর নিকট আবারও ২ একর ৬৪ শতাংশ জমি বিক্রয় করেন বলে জানা যায়।

চাঁন ভানুর নামে জমি না থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত বিক্রয়ের কারণে মোনাছেফ মুসুল্লী ওই সময় আদালতে মামলা করেন। মামলার রায় তার বিপক্ষে গেলে তিনি পরবর্তীতে ওই জমি খবির হাওলাদারের কাছে বিক্রি করেন।

বর্তমানে খবির হাওলাদারের কাছ থেকে বায়না সূত্রে মালিকানা দাবি করে অভিযুক্ত বেলাল হাওলাদারসহ অন্যান্যরা জমিতে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী প্রবাসী সরোয়ার খলিফা মোবাইল ফোনে জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। হঠাৎ একটি কুচক্রী মহল তার জমিতে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দখলের চেষ্টা করছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

অন্যদিকে অভিযুক্ত বেলাল হাওলাদার জানান, তারা খবির হাওলাদারের কাছ থেকে বায়না সূত্রে জমি ক্রয় করে সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন। এ জমি নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। তবে মামলার রায় তাদের বিপক্ষে গেলে তারা জমি ছেড়ে দেবেন বলে জানান তিনি।

১৩৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন