রংপুরে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধের দাবিতে গণঅবস্থান, হরতালের আলটিমেটাম
শনিবার, ৯ মে, ২০২৬ ৯:১৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বিদ্যুৎ বিভাগ নেসকো কর্তৃক ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার স্থাপন বন্ধসহ গ্রাহক হয়রানির প্রতিবাদে দিনভর রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন রংপুর নগরীর শত শত অধিবাসী।
রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির উদ্যোগে শনিবার এ কর্মসূচি থেকে দাবি মানা না হলে হরতালসহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
এর আগে শনিবার বেলা ১১টা থেকে দিনভর রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। জনমত উপেক্ষা করে গ্রাহক শোষণ ও হয়রানির অভিযোগে প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী, শিক্ষকসহ বিপুল সংখ্যক নগরবাসী অংশ নেন।
নাগরিক কমিটির সভাপতি শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোজাহার আলী সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক পলাশ কান্তি নাগ অ্যাডভোকেট, রংপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান কাজী মোহাম্মদ জুন্নুন, রংপুর মহানগর দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তানভীর আশরাফী, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, নাগরিক কমিটির সদস্য সুমন, বাবু, প্রবীণ আইনজীবী খায়রুল আলম বাপ্পি অ্যাডভোকেটসহ বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আমদানি করা নিম্নমানের প্রিপেইড মিটার গ্রাহকদের জোর করে নিতে বাধ্য করছে নেসকো। তারা বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। এমনকি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশের ভয় দেখানো হচ্ছে। এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ সভা, সমাবেশ এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
সমাবেশে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার প্রামাণিক বলেন, তার অনুপস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের বাধা সত্ত্বেও নেসকো তার বাসায় প্রিপেইড মিটার স্থাপন করেছে। টাকা ভরার পরপরই ৪০০ টাকা কেটে নেওয়া হয় এবং বিভিন্ন ট্যাক্সের নামে আরও টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, আগে মাসে বিদ্যুৎ বিল আসতো ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, এখন তাকে প্রায় ২০০০ টাকা দিতে হচ্ছে। প্রিপেইড মিটার স্থাপনের নামে নেসকোর এই জুলুম বন্ধের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সমাবেশে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক পলাশ কান্তি নাগ অ্যাডভোকেট বলেন, প্রিপেইড মিটার স্থাপনের নামে যে অরাজকতা চলছে তা বন্ধে গণশুনানি আয়োজনের দাবি জানানো হলেও তা করা হচ্ছে না। বরং তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের পুলিশের ভয় দেখিয়ে হয়রানি করছে এবং প্রিপেইড মিটার নিতে বাধ্য করছে। তিনি বলেন, অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধ করা না হলে হরতালসহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
১২০ বার পড়া হয়েছে