সর্বশেষ

সারাদেশ

জীবিকার পথে মৃত্যুঝুঁকি: শ্রমিক পরিবহনে অব্যবস্থাপনা কতদিন?

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট

সোমবার, ৪ মে, ২০২৬ ১:৩৯ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ভোরের আলো ফোটার আগেই জীবিকার সন্ধানে ঘর ছাড়েন নির্মাণশ্রমিকরা। প্রতিদিনের মতো নির্দিষ্ট পয়েন্টে জড়ো হয়ে অপেক্ষা করেন কাজের আশায়। কেউ কাজ পান, কেউ ফিরে যান হতাশ হয়ে। কিন্তু যেদিন কাজ জোটে, সেদিনই অনেক সময় তা পরিণত হয় জীবনের শেষ যাত্রায়।

রোববার (৩ মে) সকালে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার তেলিবাজার এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আট নির্মাণশ্রমিক। আহত হয়েছেন আরও অন্তত সাতজন। শ্রমিক বহনকারী একটি ডিআই ট্রাককে কাঁঠালবোঝাই আরেকটি ট্রাক ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চারজনের মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, সিলেট নগরের আম্বরখানা থেকে ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারে একটি নির্মাণকাজে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন এসব শ্রমিক। ডিআই ট্রাকটিতে শ্রমিকদের পাশাপাশি তোলা ছিল ভারী মিক্সার মেশিনও। এতে করে অতিরিক্ত যাত্রী ও ভারী মালামালের চাপ গাড়ির ভারসাম্য মারাত্মকভাবে নষ্ট করে।

এ ধরনের দুর্ঘটনা সিলেটে নতুন নয়। এর আগে ২০২৩ সালের ৭ জুন দক্ষিণ সুরমার নাজিরবাজার এলাকায় একই ধরনের ঘটনায় ১৪ শ্রমিক প্রাণ হারান এবং আহত হন আরও ১০ জন। ওই ঘটনাতেও শ্রমিকদের একইভাবে গাদাগাদি করে বহন করা হচ্ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ডিআই ট্রাকে মিক্সার মেশিন তোলার পর নিরাপদভাবে সাত থেকে আটজনের বেশি বহন করা সম্ভব নয়। কিন্তু বাস্তবে সেখানে ২০ থেকে ৩০ জন শ্রমিককে তোলা হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

নির্মাণশ্রমিক হামিদ মিয়া বলেন, প্রতিদিন কাজের জন্য তারা আম্বরখানায় জড়ো হন এবং সেখান থেকেই বিভিন্ন সাইটে নেওয়া হয়। কিন্তু পরিবহনের অবস্থা এতটাই খারাপ যে নিজেদের মানুষ নয়, বরং মালামাল মনে হয়। শ্বাস নেওয়ারও জায়গা থাকে না। তবুও কাজ হারানোর ভয়ে ঝুঁকি নিতে বাধ্য হন তারা।

অন্যদিকে, ঠিকাদারদের কেউ কেউ বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার বলেন, এভাবে শ্রমিক পরিবহন দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রতিদিন এমনটা ঘটে না।

নির্মাণ খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, খরচ কমানোর জন্যই ঠিকাদাররা একই গাড়িতে শ্রমিক ও ভারী যন্ত্রপাতি বহন করেন। এতে সাময়িকভাবে কিছু অর্থ সাশ্রয় হলেও শ্রমিকদের জীবন পড়ে যায় চরম ঝুঁকির মুখে।

চালকদের অসতর্কতা ও অতিরিক্ত গতিও দুর্ঘটনার বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিজ্ঞ চালক ও প্রশিক্ষকরা বলছেন, অতিরিক্ত বোঝাই অবস্থায় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে এবং ব্রেকিং সিস্টেমও ঠিকভাবে কাজ করে না।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ট্রাকের হেলপারকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, উভয় যানবাহনই অতিরিক্ত বোঝাই ছিল এবং দ্রুতগতিতে চলছিল। ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।

আইন অনুযায়ী পণ্যবাহী যানবাহনে মানুষ পরিবহন নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। সচেতনতার অভাব এবং আইনের দুর্বল প্রয়োগের কারণে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রমিকদের নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতেই থাকবে। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে যাত্রা করা এসব শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

১২২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন