সর্বশেষ

সারাদেশ

বর্ষায় জলাবদ্ধতা কমাতে চসিকের পরিষ্কার অভিযান জোরদার

স্পেশাল করেসপনডেন্ট, চট্টগ্রাম
স্পেশাল করেসপনডেন্ট, চট্টগ্রাম

রবিবার, ৩ মে, ২০২৬ ১১:৫২ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
চট্টগ্রাম মহানগরীতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমাতে মাঠপর্যায়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।

এ লক্ষ্যে নগরীর বিভিন্ন জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

রোববার (৩ মে) দুপুরে পরিদর্শনকালে মেয়র সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, নালা-নর্দমা, খাল-বিলসহ পানি প্রবাহের সব পথ স্বাভাবিক রাখতে দিনরাত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে স্বস্তি দিতে চলমান প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-কে অনুরোধ জানান তিনি।

মেয়র বলেন, যেসব স্থাপনা বা প্রতিবন্ধকতার কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, সেগুলো অপসারণের মাধ্যমে খাল-নালা পরিষ্কার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ময়লা-আবর্জনা ও পলি অপসারণের ফলে পানি দ্রুত নিষ্কাশন শুরু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বৃষ্টির পানি জমে থাকার অন্যতম কারণ কিছু সড়কের নিচু হয়ে যাওয়া। দীর্ঘদিনের উন্নয়নকাজ, খাল প্রশস্তকরণ এবং বিভিন্ন স্থাপনা অপসারণের ফলে কোথাও কোথাও সড়ক দেবে গেছে। এসব সড়ক উঁচু করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং তা বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা আরও কমে আসবে।

নগরীর অবশিষ্ট খালগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি নতুন সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মেয়র। এ জন্য নতুন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোপোজাল (ডিপিপি) প্রস্তুতের কাজ চলছে। তিনি বলেন, ডিপিপি অনুমোদিত হলে আগামী বছর থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করা সম্ভব হবে এবং এটি বাস্তবায়িত হলে নগরের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ সমাধান সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে নগরীর ৩৭টি খালের পাশাপাশি চসিকের আওতাধীন আরও ২১টি খাল নিয়ে কাজ চলছে। তবে জনদুর্ভোগ কমাতে বর্ষা মৌসুমে কিছু বড় প্রকল্পের কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।

গত বছরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গত বছর প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা নিরসনে সফলতা এসেছে। চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে এ বছর তা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করছেন তিনি।

পরিদর্শনকালে নগরীর ফ্রিফোর্ট সড়কের বেহাল অবস্থার বিষয়েও কথা বলেন মেয়র। তিনি জানান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে বাস্তবায়নাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‍্যাম্প নির্মাণকাজের কারণে সেখানে মাটি ফেলে রাখা হয়েছে, ফলে সড়ক সংস্কার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে ম্যাক্স গ্রুপকে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে জমে থাকা মাটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, র‍্যাম্পের কাজ চলুক বা না চলুক, নগরবাসীর স্বার্থে দ্রুত ওই সড়ক সংস্কার করা হবে।

চসিক সূত্র জানায়, জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন, ড্রেন পরিষ্কার এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ সময় মেয়র নগরবাসীকে যত্রতত্র প্লাস্টিক, পলিথিন ও বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানান এবং পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়; নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণও জরুরি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং চলমান প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগরবাসী আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বস্তি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন