আমরা শুধু স্কুলটা বাঁচাতে চাই : শিশুদের অশ্রুসিক্ত নয়ন
বৃহস্পতিবার , ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৫৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জলঙ্গার কুটি ও বাবুর চর এলাকাজুড়ে প্রায় এক কিলোমিটার অংশে ভাঙন রোধের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে শত শত নারী-পুরুষ মানববন্ধন ও সমাবেশে অংশ নেন।
তাদের সঙ্গে ছিল শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী, যাদের চোখেমুখে ভয়, অনিশ্চয়তা এবং প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হারানোর শঙ্কা স্পষ্ট।
নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে বৃদ্ধা আছিয়া বেগম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “এই ভিটাটুকুই আমাদের সব। নদী যদি নিয়ে যায়, আমরা কোথায় যাব?” একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন আকলিমা, কবিজন নেছা এবং বৃদ্ধ শাহাবুর। স্থানীয় বাসিন্দা নওশের আলী বলেন, “প্রতি বছরই ভাঙন দেখি, কিন্তু এবার মনে হচ্ছে সব শেষ হয়ে যাবে।”
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ছিল গভীর উৎকণ্ঠা। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রিমা আক্তার বলে, “আমাদের স্কুলটা যদি নদীতে চলে যায়, আমরা কোথায় পড়ব? আমার বন্ধুরা কি সবাই আলাদা হয়ে যাবে?” তার সহপাঠী রাব্বি যোগ করে, “আমরা শুধু স্কুলটা বাঁচাতে চাই।”
স্থানীয়দের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ খাজা শরীফ রিন্টু, হাতিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক নাজমুন নাহার বিউটি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির এবং সাংবাদিক ফজলুল করিম ফারাজি।
সমাবেশে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “পৃথিবীর অনেক দেশে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ক্ষতিপূরণ পায়। কিন্তু আমাদের দেশে তারা গৃহহীন হয়ে বারবার ঠিকানা বদলায়। যেন তারা এই দেশেরই মানুষ নয়।” তিনি দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, জেলার ১৬টি নদ-নদীর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, “দ্রুত এক লাখ বালুভর্তি জিও ব্যাগের টেন্ডার আহ্বান করা হবে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু করা হবে।”
তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, এ উদ্যোগ কতটা দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। কারণ প্রতিদিনই নদী এগিয়ে আসছে জনপদের দিকে। ফলে বাড়ছে মানুষের আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা এবং টিকে থাকার সংগ্রাম।
১০৬ বার পড়া হয়েছে