কুমারখালী বালিকা বিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভবন দখল, টি-স্টলে পরিণত
বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:২২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার কুমারখালী সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভবনটি বর্তমানে চা-সিগারেট বিক্রেতাদের দখলে চলে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি এখন চা পান ও ধূমপানের একটি অনানুষ্ঠানিক স্থানে পরিণত হয়েছে। অথচ একসময়ের এই ঐতিহাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন রক্ষায় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯২৯ সালে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতার বংশধররা রেজিস্ট্রিকৃত দানপত্রের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের ভূমি দান করেন। পরবর্তীতে নতুন টিনের ছাউনি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে তৎকালীন কুষ্টিয়া মহাকুমা ম্যাজিস্ট্রেট মি. পি. ডি. মার্টিন, আই.সি.এস-এর উৎসাহ ও পরামর্শে ভবনটি সম্পূর্ণ ইট দিয়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। গৃহনির্মাণে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল তিন হাজার টাকা, যার এক-তৃতীয়াংশ স্থানীয় জনগণ এবং দুই-তৃতীয়াংশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রদানের কথা ছিল। তবে সরকারি অর্থ না থাকায় সে বছর নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে ১৯৩৩ সালে কুষ্টিয়া মহাকুমা ম্যাজিস্ট্রেট শ্রীযুক্ত হিরন্ময় বাণার্জি, আই.সি.এস-এর প্রেরণায় পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১৯৩৪ সালের ২১ ডিসেম্বর তৎকালীন নদীয়া জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শ্রীযুক্ত সত্যেন্দ্রমোহন বাণার্জি, আই.সি.এস ভবনটির উদ্বোধন করেন। ভবন নির্মাণে মোট ব্যয় হয় ৩,৭৫০ টাকা ১৫ পয়সা।
নির্মাণকালীন সময়ে কলিকাতা, নদীয়া, কুষ্টিয়া, কুমারখালী, কুমারখালী পৌরসভা, দুর্গাপুর, তেবাড়িয়া, কুন্ডুপাড়া, এলঙ্গী, আগ্রাকুন্ডা, দয়রামপুর, আমলাবাড়ী, ওসমানপুর, সেনগ্রাম, সেরকান্দি, বাটিকামারা, পাবনা, টাঙ্গাইল, মোরাগাছা, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকার বহু ধনী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ১০০, ৫০ ও ২৫ টাকা করে অনুদান প্রদান করেন।
প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাস আরও পুরোনো। প্রায় ১৫৭ বছর আগে, ১৮৬৩ সালের ৬ মে তৎকালীন নদীয়া জেলার কুমারখালীর নির্জন এলাকায় এই বালিকা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন মহাত্মা কৃষ্ণধন মজুমদার। তাঁর উদ্যোগে সহযোগিতা করেন তাঁর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা রামধন মজুমদার এবং বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সমাজসেবক কাঙাল হরিনাথ মজুমদার।
প্রথম পর্যায়ে এটি একটি অবৈতনিক নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল। তখন বিনা বেতনে শিক্ষকতা করতেন কাঙাল হরিনাথ মজুমদার, আর সূচিকর্ম শিক্ষা দিতেন স্থানীয় এক দর্জি। শিক্ষকদের বেতন বহন করতেন প্রতিষ্ঠাতা কৃষ্ণধন মজুমদার, যিনি বিদ্যালয়ের প্রথম সম্পাদকও ছিলেন।
১৯২৬ সালে বিদ্যালয়টি নিম্ন প্রাথমিক থেকে উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার কিছু সময় আগে এটি উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।
স্থানীয়রা মনে করছেন, এই ঐতিহ্যবাহী ভবনটি এভাবে অবহেলায় না রেখে সংরক্ষণশালা বা জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষণ করা হলে এর ঐতিহাসিক মর্যাদা রক্ষা পাবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর ইতিহাস জানতে পারবে।
১৫০ বার পড়া হয়েছে