সর্বশেষ

সারাদেশ

গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পে কুষ্টিয়াসহ কয়েকটি জেলায় স্বস্তি

নুুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া
নুুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া

বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ৮:৫৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
সারাদেশে বোরো ধান আবাদ মৌসুমে সেচ ও ডিজেল সংকট নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকরা। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি—ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ডিজেল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় চাহিদামতো ডিজেল মিলছে না। এমন পরিস্থিতিতে কুষ্টিয়াসহ তিন জেলায় গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের পানি ব্যবহার করে বোরো আবাদে স্বস্তি পেয়েছেন লক্ষাধিক কৃষক।

কুষ্টিয়া জেলার অধিকাংশ জমিতে বর্তমানে জিকে সেচ প্রকল্পের পানিতে বোরো চাষ হচ্ছে। এতে সেচ নিয়ে কৃষকদের কোনো দুশ্চিন্তা নেই, পাশাপাশি ডিজেলের জন্য পাম্পে ছুটোছুটিও করতে হচ্ছে না। বছরে মাত্র ২০০ টাকায় বোরোসহ অন্যান্য ফসলের সেচ সুবিধা পাচ্ছেন কৃষকরা, যা তাদের উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে শাখা খালগুলো সংস্কার না হওয়া এবং প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকার কারণে জেলার অনেক কৃষক এখনো এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে ডিজেল সংকটের সময়ে তারা জমিতে সঠিকভাবে সেচ দিতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া তাঁতিবন্ধ গ্রামের কৃষক মহিদুল ইসলাম জানান, আগে ডিজেলচালিত পাম্প দিয়ে সেচ দিতে গিয়ে লাভের চেয়ে লোকসানই বেশি হতো। এ বছর প্রথমবারের মতো জিকে খালের পানি ব্যবহার করে বোরো ও সবজি চাষ করছেন তিনি। পানির কোনো সংকট না থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন মশান গ্রামের কৃষক আজমল হোসেন। তিনি চার বিঘা জমিতে বোরো, দুই বিঘায় সবজি এবং এক বিঘায় ভুট্টা চাষ করেছেন। প্রয়োজনীয় সব পানি জিকে খাল থেকেই পেয়েছেন। তিনি বলেন, ডিজেল সংকটের এই সময়ে পাম্প চালানোর প্রয়োজন হয়নি, ফলে খরচ কমেছে এবং ফলন ভালো হয়েছে।

জিকে সেচ ব্যবস্থাপনা ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাফায়েত হোসেন পল্টু জানান, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা এ প্রকল্পের আওতায় সেচ সুবিধা পাচ্ছেন। কৃষকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে খাল দখলমুক্ত করা, নিয়মিত খনন এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হলে কৃষকরা আরও বেশি উপকৃত হবেন বলে মত দেন তিনি।

জিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুর রহমান জানান, চলতি বছর কুষ্টিয়া জেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টরসহ মোট ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষকদের ডিজেল খরচ কমছে এবং আর্থিক সাশ্রয় হচ্ছে। কৃষিতে আরও উন্নতি আনতে এ বছর অতিরিক্ত ৫০৮ কিলোমিটার খাল পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট এবং প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যের প্রভাব শুষ্ক মৌসুমে তীব্র আকার ধারণ করে। যেখানে পানীয় জলের সংকটই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, সেখানে সেচের পানি পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে জিকে সেচ প্রকল্পের পানি কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সেচ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং স্থায়ীভাবে উন্নয়ন করা গেলে ভবিষ্যতে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের আর কোনো উদ্বেগ থাকবে না।

১০৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন