পরকীয়া অপবাদে সালিশের নামে বর্বরতা: অপমানে তরুণীর আত্মহত্যা
রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ৭:০৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে গ্রাম্য সালিশে প্রকাশ্যে এক তরুণীকে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
সবার সামনে এই মারধর ও অপমান সইতে না পেরে ওই তরুণী নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার উত্তর কাশাদহ এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিচয় নিহত তরুণীর নাম নাজমা আক্তার (২৫)। তিনি শিবালয় মডেল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা খালেক পেয়াদার মেয়ে। আট বছর বয়সী এক কন্যা সন্তানের জননী নাজমা স্থানীয় একটি তালা তৈরির কারখানায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন।
সালিশে নির্মম নির্যাতন স্থানীয় সূত্র ও ঘটনার ধারণকৃত একটি ভিডিও ফুটেজ থেকে জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল রাতে নাজমার বাবার বাড়িতে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে একটি গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় মাতব্বর আজিজ খান ওরফে অন্তেষ খানের নেতৃত্বে ওই সালিশে নাজমা এবং এক যুবককে চরম শারীরিক নির্যাতন করা হয়। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন মিলে তাঁদের কিল-ঘুষি, লাথি ও লাঠি দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বেধড়ক মারধর করেন।
আত্মহত্যার ঘটনা পরিবারের সদস্যরা জানান, সালিশে চরম লাঞ্ছনার শিকার হওয়ার পরদিন শুক্রবার সকালে নাজমা স্বাভাবিকভাবেই নিজের কর্মস্থলে গিয়েছিলেন। বিকেলে কাজ শেষে বাড়ি ফিরে গোসল করেন। এরপর সন্ধ্যার দিকে নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন।
পরিবারের বক্তব্য মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন নাজমার মা নাসিমা বেগম। তিনি বলেন, “সালিশের নামে সবার সামনে আমার মেয়েকে নির্মমভাবে মারা হয়েছে। এই চরম অপমান সহ্য করতে না পেরেই সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। আমি এর বিচার চাই।”
অন্যদিকে নাজমার বাবা খালেক পেয়াদা জানান, মূলত মেয়েকে ‘শাসন’ করার জন্যই তিনি স্থানীয় লোকজনকে ডেকেছিলেন। কিছু মারধরের কথা তিনি স্বীকার করলেও, মেয়েকে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগটি তিনি এড়িয়ে যান।
প্রভাবশালীদের ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানিয়েছেন, সালিশে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিরা এলাকায় বেশ প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। এমনকি ঘটনার পর থেকে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ারও জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের পদক্ষেপ এ বিষয়ে শিবালয় থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মানোবেন্দ্র বালো জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”
১৩৭ বার পড়া হয়েছে