সর্বশেষ

সারাদেশ

সবুজ পাহাড়ে বিজু উৎসবের জোয়ার: ফুলবিজুতে মাতোয়ারা চাকমা সম্প্রদায়

আল-মামুন, খাগড়াছড়ি
আল-মামুন, খাগড়াছড়ি

রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:২৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ফুলবিজুর মধ্য দিয়ে চাকমা সম্প্রদায়ের প্রাণের উৎসবে রূপ নেয় সবুজ পাহাড়। পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করতে তিন দিনব্যাপী বিজু উৎসব আজ রবিবার থেকে শুরু হয়েছে।

উৎসবের প্রথম দিনে খাগড়াছড়ির চেঙ্গী ও মাইনী নদীসহ আশপাশের ছড়া-খালে ফুল উৎসর্গের মাধ্যমে চাকমা সম্প্রদায়ের ফুলবিজু উদযাপিত হয়। খবংপুড়িয়া ও রিভারভিউ পয়েন্টে ভোর থেকেই শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ দলবদ্ধভাবে নদীতে গিয়ে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসিয়ে সুন্দর পৃথিবীর জন্য মঙ্গল কামনা করেন।

নারী, পুরুষ ও শিশুরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশ নিয়ে ফুলবিজুর উৎসবে যোগ দেন। নারীরা পরেন পিনন-হাদি এবং পুরুষরা ধুতি পরে উৎসবে অংশ নেন। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ নিজ নিজ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে উৎসবে উপস্থিত হন।

পাহাড়ের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী আগামী কয়েক দিন ধরে নানা নামে বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায়ের উৎসব পালন করবে। মূলত ১২ এপ্রিল ফুলবিজু উদযাপন করা হয়। এই দিনে ভোরের আলো ফোটার আগেই ছেলেমেয়েরা ফুল সংগ্রহে বের হয়। সংগৃহীত ফুলের এক অংশ বুদ্ধের পূজায় ব্যবহার করা হয় এবং অন্য অংশ নদী-খালে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। বাকি ফুল দিয়ে ঘরবাড়ি সাজানো হয়।

চৈত্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ ১৩ এপ্রিল পালিত হয় মূলবিজু। এই দিনে সকালে বুদ্ধমূর্তিকে স্নান করিয়ে পূজা করা হয়। এ সময় ছেলেমেয়েরা তাদের দাদা-দাদি ও নানা-নানিকে স্নান করিয়ে আশীর্বাদ গ্রহণ করে। ঘরে ঘরে পোলাও, পায়েস, পাচন (বিভিন্ন সবজির মিশ্রণে তৈরি তরকারি)সহ নানা সুস্বাদু খাবার রান্না করা হয়। বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনরা একে অন্যের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে এসব খাবারে আপ্যায়িত হন। দিনভর ও রাত পর্যন্ত চলে ঘোরাঘুরি ও উৎসবের আমেজ।

বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল পালিত হয় ‘গজ্যা পজ্যা দিন’ (গড়িয়ে পড়ার দিন)। এই দিনেও বিজুর আনন্দ-উৎসব অব্যাহত থাকে।

খাগড়াছড়িতে ভোর থেকে জেলা সদরের চেঙ্গী নদী, ছড়া ও ঝরনাসহ বিভিন্ন স্থানে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে ফুলবিজুর সূচনা হয়। প্রার্থনায় অংশ নেন চাকমা নারী-পুরুষ ও শিশুরা। তারা শান্তিময় পৃথিবীর জন্য মঙ্গল কামনা করেন।

একজন অংশগ্রহণকারী পহেলি চাকমা বলেন, “প্রাণভরে প্রার্থনা করলাম, সবাই মিলেমিশে যেন ভালো থাকতে পারি, পৃথিবী যেন শান্তিময় হয়।”

আরেক তরুণী প্রভাতি বলেন, “আমরা বন্ধুরা মিলে চেঙ্গী নদীতে ফুল ভাসিয়ে আগামী দিনের সুখ-শান্তি কামনা করেছি। এখানে শত শত নারী-পুরুষ উৎসবে যোগ দিয়েছেন। আমি সারা বছর এই দিনের অপেক্ষায় থাকি।”

বাংলা বছরের শেষ দুই দিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন চাকমারা বিজু পালন করেন। প্রথম দিন ফুলবিজু, দ্বিতীয় দিন মূলবিজু এবং তৃতীয় দিন গজ্যা পজ্যা দিন হিসেবে পালিত হয়। উৎসবের প্রথম দিনে পূজা-অর্চনা ও বাড়িঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সাজানো হয়। দ্বিতীয় দিনে অতিথি আপ্যায়ন ও খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করা হয়। তৃতীয় দিনে হাঁস-মুরগি ও পশুপাখিকে খাবার দেওয়া, গরাইয়া নৃত্য পরিবেশন এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে আশীর্বাদ নেওয়ার রীতি রয়েছে।


এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠী নিজ নিজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধারণ করে বৃহত্তর সামাজিক উৎসব পালন করে। একইসঙ্গে পহেলা বৈশাখে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ উদযাপনও উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করা হয়।

২৫৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন