ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে আবারও হামলার দাবি ইরানের
রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬ ৭:৩২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’ এর অংশ হিসেবে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
সংস্থাটির দাবি, এ অভিযানের ২৭তম ধাপে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচলের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে সমন্বিত আক্রমণ করা হয়েছে। খবর দিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি।
শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, এই হামলায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র একযোগে ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের অধিকৃত উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি, তাদের মহাকাশ বিভাগ নতুন ধরনের কঠিন জ্বালানিচালিত ‘খেইবার-শেকান’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হাইফা শহরের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রে উন্নত লক্ষ্যনির্দেশনা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
এদিকে ড্রোন ইউনিটের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালানোর দাবি করা হয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, ‘মেরিনা’ নামের একটি এলাকায় অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের নৌবাহিনী বাহরাইনে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। এর মধ্যে সালমান বন্দরে মার্কিন সামরিক সহায়তা স্থাপনার ওপর আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি, এসব হামলার পর ইসরায়েল অধিকৃত বিভিন্ন অঞ্চলে বারবার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজতে থাকে এবং সেখানে জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এদিকে ইরানের সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানি বাহিনী তিনটি দেশে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এতে প্রায় ২২০ জন মার্কিন সেনা ও কমান্ডার নিহত বা আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সম্পদেরও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়।
ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি জানান, বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ফিফথ ফ্লিটে চালানো হামলায় অন্তত ২১ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা বিমানঘাঁটিতে চালানো হামলায় প্রায় ২০০ জন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত বা আহত হয়েছেন। পাশাপাশি পারস্য উপসাগরের উত্তরাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর পরই ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’ শুরু করে তেহরান। ইরানের দাবি, ওই হামলায় দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত হানা হয়।
তেহরানের অভিযোগ, ওই হামলায় ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, শতাধিক বেসামরিক নাগরিক এবং কয়েকজন সামরিক কমান্ডার নিহত হন।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান দ্রুত পাল্টা অভিযান শুরু করে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হামলাগুলো মূলত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্বার্থকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব দেশের ভূখণ্ডে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, তাদের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কথাও জানিয়েছে ইরান।
১১০ বার পড়া হয়েছে