সময় শেষ হলেও শেষ হয়নি সুনামগঞ্জ হাওরে বাঁধের কাজ, শঙ্কায় কৃষক
বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬ ৯:১৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সুনামগঞ্জের হাওরগুলোতে নির্ধারিত সময়ে ফসলরক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। চলতি মৌসুমে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন করার সময়সীমা থাকলেও অনেক বাঁধে এখনো মাটি ফেলার কাজ চলছে। এতে করে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
প্রতিবছরের মতো এবারও নানা অজুহাত দেখিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড সময় বৃদ্ধি করার কথা জানিয়েছে।
২০১৭ সালে প্রলয়ঙ্করী বিপর্যয়ের পর সরকারের পক্ষ থেকে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের নীতিমালায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। নতুন নীতিমালায় ঠিকাদারির প্রচলিত ব্যবস্থা বাতিল করে স্থানীয় কৃষকের সমন্বয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয় এবং ১৫ ডিসেম্বর বাঁধের কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রæয়ারির মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হয়। তবে কৃষকের স্বার্থে সরকার বাঁধ রক্ষায় এই পরিবর্তনসহ বড় অঙ্কের অর্থ ছাড় করলেও কাজ চলছে পুরোনো আদলে।
২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত অনেক বাঁধে মাটির কাজও সম্পন্ন হয়নি। যেখানে মাটি ফেলা হয়েছে, সেগুলো সঠিক মাপে বসানো, মাটি সমতল করা ও ঘাস লাগানো কাজ ভালোভাবে হয়নি। অনেক ক্লোজারে বাঁশ, বস্তা ও চাটাই বসানো হয়নি।
শুক্রবার দুপুরে সুনামগঞ্জের হাওরে বাঁধের কাজ পরিদর্শনে এসেছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এসময় তিনি জেলার তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও জামালগঞ্জের বিভিন্ন হাওরের বাঁধ পরিদর্শন করেন। পরে তিনি বলেন,
"নির্বাচনী প্রতিশ্রæতি অনুযায়ী দায়িত্ব নিয়েই আমরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। কিভাবে শুকনো মৌসুমে জুন মাস পর্যন্ত মানুষকে পর্যাপ্ত সেচ সুবিধা দিতে পারি সেই চিন্তা আমরা করছি। কারণ এখানে প্রচুর পরিমাণে ধান উৎপাদন হয়। উৎপাদনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় বাঁধ জরুরি। বাঁধ স্থায়ীভাবে ধরে রাখাও আমাদের লক্ষ্য। এছাড়াও এখানকার ডুবন্ত বাঁধগুলো প্রতিবছরই রিপেয়ার করতে হয়। বাঁধ রিপেয়ার করার কারণে এখানে শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে ভূমিকা রাখছে হাওরাঞ্চল। এজন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা হাওরাঞ্চলকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রতিবছর যেনো কাজ সুন্দরভাবে ও দুর্নীতিমুক্ত ভাবে হয় সেদিকে আমাদের নজর রয়েছে।"
সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলার ছোট-বড় ১২৩ টি হাওরে এবার বোরো চাষ হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪০৭ হেক্টর জমিতে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ লাখ ৭০ হাজার ২০০ টন। পাহাড়ি ঢল ও অকাল বন্যা থেকে এই ধান রক্ষা করতে চলতি বছরে জেলায় প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে হাওরের ফসল রক্ষায় ৭০২টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের গাফিলতির কারণে বাঁধের কাজ সময়মতো হচ্ছে না। হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সুনামগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন বলেন,
"এবার নির্বাচনের জন্য হাওরে তেমন তদারিক হয়নি। এই সুযোগে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জোগসাজসে হাওরে লোটপাট করা হয়েছে। তাই সময়মতো বাঁধের কাজ শেষ হয়নি।"
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনের কারণে এবার বাঁধের কাজ পিছুটান হয়েছে। তবে আরও সপ্তাহখানেকের মধ্যে সব কাজ শেষ হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার স্বীকার করেছেন, নির্বাচনের কারণে বাঁধের কাজ পিছুটান হয়েছে। তবে আগাম বন্যার আগেই বাঁধের কাজ শতভাগ সম্পন্ন করা হবে।
১৫২ বার পড়া হয়েছে