একাত্তরের স্বাধীনতা রক্ষায় চব্বিশের যুদ্ধ, এরাও 'মুক্তিযোদ্ধা': তারেক রহমান
রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ৮:৪০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
জুলাই-আগস্টের গণ-আন্দোলনে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পৃথক একটি বিভাগ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহতদের দায়িত্ব নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও গুরুতর আহতদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারা যেমন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তেমনি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধারাও একই লক্ষ্যেই লড়াই করেছেন। তার ভাষায়, ‘একাত্তরে স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ হয়েছিল, আর চব্বিশে সেই স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই হয়েছে।’
জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের বিষয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করলে এসব পরিবারের কষ্ট লাঘবে রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। ‘যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে তাদের পরিবার ও আহতদের দেখভাল করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন বিভাগ গঠন করা হবে,’ বলেন তিনি।
তারেক রহমান স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপি অতীতে সরকারে থাকাকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিল। একই ধারাবাহিকতায় জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলোকেও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় আনার অঙ্গীকার করেন তিনি।
গণ-আন্দোলনে হতাহতের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, জুলাই আন্দোলনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। অনেকেই চোখ হারিয়েছেন কিংবা স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে গেছেন। তিনি দাবি করেন, ‘দেড় হাজারের মতো মানুষকে হত্যার ঘটনা গণহত্যা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের সাহসিকতার কারণেই ফ্যাসিবাদী শক্তি শুধু ক্ষমতা হারায়নি, দেশ ছাড়তেও বাধ্য হয়েছে। তার মতে, ‘২০২৪ সালের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়; এটি ছিল অধিকারবঞ্চিত মানুষের গণ-আন্দোলন।’
আহতদের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে তারেক রহমান জানান, বিএনপি সরকার গঠন করলে দুই ধাপে সহায়তা দেওয়া হবে-রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং আহতদের যোগ্যতা অনুযায়ী অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রদান।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত না হলে শোকের রাজনীতি চলতেই থাকবে। তবে গণতন্ত্রকামী মানুষই আগামী দিনে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ইতিহাস রচনা করবে।
১২১ বার পড়া হয়েছে