সর্বশেষ

জাতীয়১৭ জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, কুয়াশায় স্থবির জনজীবন
কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে স্থবির রাজধানীর জনজীবন
সারাদেশঘন কুয়াশায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল স্থগিত
যশোর রেজিস্ট্রি অফিসে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল তিনশ বছরের দুর্লভ দলিল
কুমিল্লা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে দেড় কোটির বেশি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বসতবাড়ি থেকে পুরোনো আর্টিলারি শেল উদ্ধার
আন্তর্জাতিকশামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তে অটল যুক্তরাজ্য
সৌদি আরবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে ১১৬ সরকারি কর্মকর্তা আটক
ইরানে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটে উত্তাল জনপথ, সংঘর্ষে নিহত ৬
খরা কাটতেই বন্যা, আফগানিস্তানে প্রাণ গেল অন্তত ১৭ জনের
খেলাআইসিসির পিচ ও আউটফিল্ড রেটিংয়ে তলানিতে বাংলাদেশ, বাড়ছে উদ্বেগ
আন্তর্জাতিক

খরা কাটতেই বন্যা, আফগানিস্তানে প্রাণ গেল অন্তত ১৭ জনের

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫:৩১ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
দীর্ঘস্থায়ী খরা পরিস্থিতির পর হঠাৎ ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাত আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করেছে।

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি এলাকায় তুষার গলার ফলে দেশের মধ্য, উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) হেরাত প্রদেশের কাবকান জেলায় বৃষ্টির চাপে একটি বাড়ির ছাদ ধসে পড়ে। এ ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজন সদস্য নিহত হন, যাদের মধ্যে দুইজন শিশু রয়েছে। হেরাত গভর্নরের মুখপাত্র মোহাম্মদ ইউসুফ সাঈদী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আফগানিস্তান জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবল স্রোতে বহু ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে এবং বিপুলসংখ্যক গবাদিপশু মারা গেছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হেরাত-কান্দাহার মহাসড়কের দাশত-ই বাকওয়া এলাকায় বন্যার পানিতে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক উল্টে যাচ্ছে। প্রাণ বাঁচাতে মানুষকে স্রোতের সঙ্গে লড়াই করতে দেখা যায়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র মোহাম্মদ ইউসুফ হাম্মাদ জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে ইতোমধ্যে দুর্গত এলাকায় জরিপ দল পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি ত্রাণ ও সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নিরূপণে কাজ চলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আফগানিস্তান বর্তমানে চরম আবহাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, দুর্বল অবকাঠামো ও বন উজাড়ের কারণে মৌসুমি বৃষ্টিতেই দেশটিতে প্রায়ই আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কাঁচা মাটির ঘরগুলো সহজেই ধসে পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

উল্লেখ্য, গত আগস্টে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে এক হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। সেই ক্ষত কাটতে না কাটতেই নতুন করে বন্যা দেশটির মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, ২০২৬ সালেও আফগানিস্তান বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকটপূর্ণ দেশ হিসেবেই থাকবে। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। এই সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘ ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের তহবিল আহ্বান করেছে।

বিশ্বব্যাপী উষ্ণতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় পরিবেশগত সমস্যার কারণে ভবিষ্যতে আফগানিস্তানে এমন দুর্যোগ আরও ঘন ঘন ও ভয়াবহ আকারে দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

১০৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন