সর্বশেষ

সারাদেশ

পাগলা মসজিদে মিলেছে টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও আবেগঘন চিরকুট

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫ ৫:২০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবারও মিলেছে চমকে দেওয়ার মতো দান।

৪ মাস ১৭ দিন পর শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৭টা ১৫ মিনিট থেকে শুরু হয় দানবাক্স খোলার কার্যক্রম। প্রায় সাড়ে ১১ ঘণ্টার চেষ্টায় গণনা শেষে জানা গেছে, এবার মোট সংগ্রহ হয়েছে রেকর্ড ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা। এছাড়া পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা।

মোট ৩২ বস্তা টাকা সংগ্রহ করা হয়, যার প্রতিটি বস্তায় ছিল মুদ্রিত টাকা, কয়েন এবং বিভিন্ন ধরনের মুদ্রা। এই গণনার কাজে অংশ নেন প্রায় ৫০০ জন। এর তত্ত্বাবধানে ছিলেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার এবং সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার কামরুল হাসান মারুফ। গণনা কাজে সহায়তা করে রূপালী ব্যাংকের একটি বিশেষ টিম, যার নেতৃত্বে ছিলেন ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মোহাম্মদ আলী হারেছী।

এই বিপুল দানের পাশাপাশি এবারও দানবাক্সে পাওয়া গেছে অসংখ্য চিরকুট। এসব চিরকুটে উঠে এসেছে মানুষের ব্যক্তিগত দুঃখ, আকুতি ও আশা-ভরসার চিত্র।

একটি চিরকুটে নামপরিচয়হীন একজন লিখেছেন, “ডাইনি হাসিনাকে তার কর্মের শাস্তি না দেখা পর্যন্ত আমাকে বাঁচিয়ে রেখ আল্লাহ। অনেক আলেমকে কষ্ট দিছে। আমার প্রিয় সাঈদীকে অনেক অত্যাচার করছে। হে আল্লাহ, আমার প্রিয় বাংলাদেশে একজন ওমর (রা.) এর মতো শাসক পাঠাও।”

এক নারীর চিরকুটে লেখা, “হে আল্লাহ, আপনি আমার স্বামী মো. জসিমকে পাগলা মসজিদের ওসিলাতে একটি ভালো চাকরি দিন। আমাদের রিজিকের ব্যবস্থা করুন। পাগলা বাবার ওসিলাতে চাকরি দিন, আমিন।”

এক শিক্ষার্থী চায় ভালো ফলাফল ও কলেজে ভর্তি হওয়ার তাওফিক, “আল্লাহ, আমি যেন ভালো নম্বর পাই, ভালো কলেজে ভর্তি হতে পারি। আমার মাথার সব খারাপ চিন্তা দূর হয়ে যাক। মা-বাবাকে ভালো রাখুন।”

আরও একটি চিরকুটে লেখা ছিল, “আল্লাহ, নাজমুলকে সারা জীবনের জন্য আমার করে দিন। আমি তাকে আমার স্বামী হিসেবে চাই। আমার আশা পূরণ করুন।”

পাগলা মসজিদ কিশোরগঞ্জ জেলার একটি অন্যতম ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান। অনেকেই বিশ্বাস করেন, এখানে দান করলে ইচ্ছা পূর্ণ হয়। সেই আস্থা থেকেই হাজারো মানুষ শুধু টাকা নয়, প্রার্থনাও জমা রেখে যান এই দানবাক্সে।

প্রসঙ্গত, পাগলা মসজিদের মোট ৮টি দানবাক্স রয়েছে। প্রতি কয়েক মাস পরপর এসব বাক্স খোলা হয়। তবে এবারকার দান পূর্বের সকল রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

 

৩৭০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন