টিপু মাদবরকে ‘মাথা সরিয়ে দেওয়ার’ হুমকি, ভিডিও ভাইরাল
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ৫:৩৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জেলা শহরের কাছাকাছি স্থাপনের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরকে উদ্দেশ করে ‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান আমান মাদবর। তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা ও সমালোচনা।
গত রোববার (১ নভেম্বর) সকালে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে টিপু মাদবরের বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ হুঁশিয়ারি দেন আমিনুর রহমান আমান মাদবর। এ সময় বিএনপি ও দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দিচ্ছেন আমান মাদবর। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি টিপু মাদবরকে উদ্দেশ করে বলেন, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপুর বিরুদ্ধে কটূক্তির প্রতিবাদে তাঁরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দল থেকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তারের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
আমান মাদবরের বক্তব্য অনুযায়ী, জেলা বিএনপির নেতারা তাঁদের অবরোধ তুলে নিতে বলেন এবং এক-দুই দিনের মধ্যে টিপু মাদবরকে দল থেকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন। তিনি আরও বলেন, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন অপুকে নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র করা হলে কিংবা রাজনৈতিক অঙ্গনে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না।
বক্তব্যের একপর্যায়ে আমান মাদবরকে বলতে শোনা যায়, ‘সে যেই হোক, যত বড় শক্তিশালী হোক, তার ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেব এবং তাকে এই শরীয়তপুর থেকে অবাঞ্ছিত করব।’ তাঁর এই বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জেলা শহরের কাছাকাছি স্থাপনের দাবিতে গত ২৮ অক্টোবর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ওই কর্মসূচির পর জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপুকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা।
এর প্রতিবাদে ১ নভেম্বর সকালে জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে টিপু মাদবরের বহিষ্কার ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান তাঁরা। এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন কালুর কাছে স্মারকলিপিও দেন বিক্ষোভকারীরা।
এদিকে আমান মাদবরের হুমকির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গতকাল সোমবার রাতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে স্থাপনের দাবিতে স্থানীয়দের নিয়ে একটি উঠান বৈঠক করেন টিপু মাদবর।
সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জায়গায় তাঁর ছবি তৈরি করে পোড়ানো হচ্ছে এবং তাঁকে ঘিরে হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। এ সময় অতীতের রাজনৈতিক আন্দোলনে নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ১৭ বছর তিনি শরীয়তপুর শহরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন।
২০১৮ সালে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচির সময় শফিকুর রহমান কিরণ, সাঈদ আহমেদ আসলাম ও কালু সরদারের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। ওই পরিস্থিতিতে নিজে প্রতিরোধ করে তাঁদের রক্ষা করেছিলেন বলেও বক্তব্য দেন টিপু মাদবর।
তিনি বলেন, তাঁর জীবন আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কেটেছে। কেউ যেন তাঁকে যুদ্ধের হুমকি না দেন। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শরীয়তপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে স্থাপনের দাবি তাঁর ব্যক্তিগত স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান আমান মাদবর তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি এ ধরনের বক্তব্য দিইনি। আপনার ভালো করে শুনেন।’ তবে এ কথা বলার পরপরই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অন্যদিকে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু মাদবর বলেন, তাঁকে উদ্দেশ করে হুমকি দেওয়ার ভিডিওটি তিনি দেখেছেন। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণ নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে বিএনপির নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি অবস্থান এবং প্রকাশ্যে হুমকির ঘটনায় শরীয়তপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
১১৮ বার পড়া হয়েছে