ভাঙ্গায় নুডলসে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে কিশোরীকে নির্যাতনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১
রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নুডলসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে খাওয়ানোর পর শ্লীলতাহানি ও বাড়ি থেকে টাকা-স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিনজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত রুবেল শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অসুস্থ কিশোরী বর্তমানে ফরিদপুরে চিকিৎসাধীন।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের বড়দিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গত ১৯ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরী মিতু আক্তার ওই গ্রামের বাসিন্দা ফরহাদ শেখের মেয়ে।
অভিযোগ অনুযায়ী, রুবেল শেখ (৩২), সায়েম মিয়া (৪৫) ও আকতার মাতুব্বর (৩০) কিশোরীকে জানান, তাঁর মা বাবাকে ছাড়াতে থানায় গেছেন এবং তাঁর জন্য নুডলস পাঠিয়েছেন। এ কথা শুনে কিশোরী দরজা খুললে তাঁরা তাকে নুডলস খেতে বলেন। কিছুটা নুডলস খাওয়ার পর কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘরে ঢুকে তার সঙ্গে শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রুবেল শেখ ও সায়েম মিয়ার বাড়ি বড়দিয়া গ্রামে। অন্য অভিযুক্ত আকতার মাতুব্বরের বাড়ি আলগী গ্রামে।
কিশোরীর মায়ের ভাষ্য, ওই রাতে স্বামীকে ছাড়ানোর বিষয়ে কথা বলতে ভাঙ্গা থানায় যাওয়ার সময় তিনি রুবেল শেখের হাতে দুটি কাপ নুডলস দেখেছিলেন। তখন রুবেল তাঁকে জানিয়েছিলেন, নুডলস দুটি নিজের বাড়ির জন্য নিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, ভোরে বাড়ি ফিরে ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। এ সময় রুবেল শেখকে ঘর থেকে বের হতে দেখেন। পরে মেয়েকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান। মেয়ের মুখ দিয়ে লালা বের হচ্ছিল এবং সে কথা বলতে পারছিল না। ঘরের পাশে নুডলসের একটি বাটিও পড়ে ছিল।
কিশোরীর মায়ের অভিযোগ, বাড়ি থেকে মেয়ের বিয়ের জন্য রাখা এক লাখ ২০ হাজার টাকা এবং প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালংকার খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাবার বাড়ি থেকে জমি বিক্রি করে ওই টাকা আনা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
পরিবারের সদস্যরা প্রথমে কিশোরীকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাকে ফরিদপুরের একটি ট্রমা সেন্টারের ফরেনসিক বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে মামলা গ্রহণ নিয়ে জটিলতার মুখে পড়তে হয় তাঁদের। পরে ২৩ অক্টোবর এ ঘটনায় মামলা করা হয়। একই দিন প্রধান অভিযুক্ত রুবেল শেখকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অন্য দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলমান বলে জানিয়েছে ভাঙ্গা থানা পুলিশ।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বড়দিয়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
১১০ বার পড়া হয়েছে