সর্বশেষ

সারাদেশ

রানীনগরে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাই, ব্যাংকের তিন কর্মীসহ গ্রেপ্তার ৬

মামুনুর রশীদ বাবু, নওগাঁ
মামুনুর রশীদ বাবু, নওগাঁ

শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:১৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
নওগাঁর রানীনগরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যাংকের তিন কর্মীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা, একটি মোটরসাইকেল ও সাতটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অনলাইন জুয়ায় টাকা হারানোর পর ব্যাংকের কয়েকজন কর্মী ছিনতাইয়ের পরিকল্পনায় যুক্ত হন। এ ঘটনায় ব্যাংকের এক কর্মীকে সাজানো ভুক্তভোগী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

নওগাঁর রানীনগরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যাংকের তিন কর্মীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ৬ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত নওগাঁ, জয়পুরহাট ও দিনাজপুরে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নওগাঁর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বিশিয়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে স্বপন (২৮), একই গ্রামের ওয়াজেদের ছেলে হাসান আলী (২৫), অলংকার দিঘি গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে সুজন আলী (২৭), সিমলাদার গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে আবু তালেব (২২), অলংকার দিঘি গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে রাসেল বাবু (২২) এবং মোটরসাইকেলের মালিক রাব্বি আলী।

পুলিশ সুপার জানান, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের দুই কর্মী ক্যাশিয়ার নাজমুল ও অফিস সহায়ক রাসেল বাবু আদমদীঘি রেলগেট এলাকা থেকে ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে আবাদপুকুর বাজার শাখার উদ্দেশে রওনা হন। বেলা একটার দিকে রানীনগর থানার পারইল বাজার পার হয়ে বাংলালিংক টাওয়ারের সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে আরেকটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন তাঁদের পথরোধ করেন। এরপর লোহার রড দিয়ে মারধর করে টাকাগুলো নিয়ে পালিয়ে যান তাঁরা।

ঘটনার পরপরই জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও রানীনগর থানা-পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রাথমিক সূত্র পাওয়া যায়। ওই দিন রাতেই ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয় এবং এর মালিক রাব্বি আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় অভিযান চালায়। এ সময় ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্বপন ও হাসান আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৮ অক্টোবর রানীনগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ব্যাংকের আরও তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ব্যাংকের অফিস সহায়ক রাসেল বাবু এবং কর্মকর্তা সুজন আলী ও আবু তালেব কয়েক মাস ধরে অনলাইন জুয়া খেলে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা হারান। এরপর তাঁরা বিভিন্ন গ্রাহকের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে জুয়ায় ব্যবহার করেন। এভাবে টাকা হারানোর পর তাঁরা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মালিক মো. ফিরোজ হোসেনের টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন।

পুলিশের দাবি, এ পরিকল্পনায় স্বপন, হাসান আলীসহ আরও কয়েকজনকে যুক্ত করা হয়। প্রায় এক মাস ধরে তাঁরা পরিকল্পনা করেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনার দিন অফিস সহায়ক রাসেল বাবু ক্যাশিয়ার নাজমুলকে সঙ্গে নিয়ে টাকা আনতে যান। টাকা নিয়ে ফেরার পথে রাসেল বাবু ছিনতাইয়ে জড়িত ব্যক্তিদের তাঁদের অবস্থান জানাতে থাকেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর স্বপন, হাসানসহ অন্যরা তাঁদের পথরোধ করে মারধর করেন এবং টাকা নিয়ে পালিয়ে যান।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যাশিয়ার নাজমুল ছিলেন প্রকৃত ভুক্তভোগী। তাঁকে লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। অন্যদিকে, অফিস সহায়ক রাসেল বাবু ছিনতাইয়ের ঘটনাকে বাস্তব হিসেবে দেখানোর জন্য সাজানো ভুক্তভোগীর ভূমিকা পালন করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

পুলিশ সুপার জানান, ছিনতাই হওয়া ৩৪ লাখ টাকার মধ্যে ব্যাংকের তিন কর্মীর ১০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা ছিল। বাকি টাকা অন্য ছিনতাইকারীদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। প্রাথমিকভাবে স্বপন ও হাসানকে দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয় এবং নওগাঁ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বলা হয়। পরে তাঁরা জয়পুরহাট হয়ে দিনাজপুরে চলে যান।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জিন্নাহ আল মামুন, জেলা গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক হাসিবুল্লাহ হাসিব, নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকারিয়া মণ্ডলসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

১০৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০