সর্বশেষ

সারাদেশ

সাগরে মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, উপকূলের জেলেদের চরম অসন্তোষ

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:১৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় নদীগুলোতে শুরু হয়েছে ২২ দিনের মাছ ধরার সরকারি নিষেধাজ্ঞা। তবে একের পর এক অবরোধ এবং পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার কারণে পটুয়াখালীর কলাপাড়াসহ উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা বিরাজ করছে।

ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের বাধাহীন প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতিবছর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। এবারের নিষেধাজ্ঞার আওতায় সমুদ্র ও সমুদ্র মোহনা-সংলগ্ন নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ বন্ধ থাকবে।

সরকারের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর গভীর সমুদ্রে থাকা মাছধরা ট্রলারগুলো তীরে ফিরতে শুরু করেছে। দেশের অন্যতম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পটুয়াখালীর মহিপুর-আলিপুর, কুয়াকাটা ও রাঙ্গাবালীসহ উপকূলীয় এলাকার হাজারো জেলে ইতোমধ্যে তীরে ফিরে এসেছেন।

তবে জেলেদের দাবি, এখনো ইলিশের পেটে পর্যাপ্ত ডিম আসেনি। ইলিশের প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। এরপরও সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়েছেন জেলেরা।

নিষেধাজ্ঞাকালে দেশের জলসীমায় পার্শ্ববর্তী দেশের জেলেদের অনুপ্রবেশ ও মাছ ধরার বিষয়ে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এ জন্য নৌবাহিনী ও প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রকৃত জেলেদের মধ্যে প্রণোদনার পরিমাণ বাড়িয়ে সঠিকভাবে বিতরণেরও দাবি রয়েছে।

কুয়াকাটা আশার আলো জেলে সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি নিজাম শেখ বলেন, সমুদ্রে মাছ শিকার করতে গিয়ে বেশিরভাগ জেলেই শূন্য হাতে তীরে ফিরছেন। আগের মতো সমুদ্রে মাছ ধরা পড়ছে না। তাঁর অভিযোগ, সমুদ্রে দেশি-বিদেশি অবৈধ ট্রলিং বোটের পাশাপাশি ভারতীয় জেলেদের আধিপত্য রয়েছে। এসব বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে বারবার অবরোধ দিয়ে জেলেদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে আবহাওয়াও প্রতিকূলে থাকছে।

জেলে আবুবক্কর বলেন, এমনিতেই সাগরে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে আবার নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। সরকার যে প্রণোদনা দেয়, তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তিনি প্রণোদনার চালের সঙ্গে ডাল ও তেল দেওয়ার দাবি জানান।

ট্রলার মাঝি মো. বসির বলেন, বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংকের ঋণের পাশাপাশি দাদনের বোঝায় জেলেরা জর্জরিত। এই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে জেলে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সবাই হতাশায় রয়েছেন।

মহিপুর মৎস্য আড়তদার সমবায় মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফজলু গাজী বলেন, গত দুই-তিন বছর ধরে সাগরে আশানুরূপ মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। যখন কিছুটা মাছের দেখা মেলে, তখনই আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায়। তাঁর মতে, জেলেদের প্রণোদনা আরও বাড়ানো উচিত।

তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে বঙ্গোপসাগরে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের কঠোর নজরদারি থাকা দরকার। তাঁর অভিযোগ, অবরোধের সুযোগ নিয়ে মিয়ানমার ও ভারতের জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে মাছ ধরে নিয়ে যায়।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, ইলিশের প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মা ইলিশসহ সামুদ্রিক সব ধরনের মাছের প্রজনন মৌসুম চলছে। সমুদ্রের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যেই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এতে শেষ পর্যন্ত মৎস্যজীবীরাই লাভবান হবেন।

তিনি আরও বলেন, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞাকালে উপজেলার ১৮ হাজার নিবন্ধিত জেলেকে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে। নিবন্ধনের বাইরে থাকা জেলেদেরও পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।

মৎস্য কর্মকর্তা জানান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বাজারজাত করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
 

১২২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০