ফরিদপুরে মিথ্যা মামলা, দম্পতির ৩ বছরের কারাদণ্ড
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:১৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করে আদালতের সময় নষ্ট এবং বিবাদীকে হয়রানির অভিযোগে এক নারী ও তাঁর স্বামীকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন মামলার বাদী রিনা আক্তার এবং তাঁর স্বামী ও মামলার এক নম্বর সাক্ষী মাসুদ বেপারী। তাঁরা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী।
ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে বুধবার বাদী রিনা আক্তার ও তাঁর স্বামী মাসুদ বেপারী আদালতে জবানবন্দি ও সাক্ষ্য দেন। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাঁদের বিস্তারিত জেরা করেন।
জেরার একপর্যায়ে রিনা আক্তার ও মাসুদ বেপারীর দেওয়া বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী ও অসত্য তথ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়। তাঁদের জবানবন্দি ও জেরার উত্তর পর্যালোচনা করে বিচারক শামীমা পারভীন নিশ্চিত হন, ব্যক্তিগত আক্রোশ এবং বিবাদীকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছিল।
আদালত সূত্র জানায়, সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মামলাটি সম্পূর্ণ বানোয়াট—এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিবাদীকে অন্যায্যভাবে হয়রানি এবং আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করার অপরাধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানে রিনা আক্তার ও তাঁর স্বামী মাসুদ বেপারীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার পরপরই আদালতকক্ষে থাকা দুই আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে সাজা পরোয়ানা মূলে তাঁদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, মিথ্যা মামলা প্রতিরোধে আদালতের এই কঠোর অবস্থান সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে।
১০৯ বার পড়া হয়েছে