কুড়িগ্রামে জমি বিরোধের জেরে গৃহবধূকে নির্মম মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:৩৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক গৃহবধূকে বেধড়ক মারধর, শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত হয়ে ওই নারী বর্তমানে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জমি নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে গত ৫ অক্টোবর পলাশবাড়ী এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী গৃহবধূর নাম মোছাঃ মনোয়ারা বেগম (৫৬)। তিনি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পলাশবাড়ী বানিয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী। হামলার ঘটনায় গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন—পলাশবাড়ী কবিরাজ পাড়ার মৃত বজলার রহমানের ছেলে আমিনুল ইসলাম মুকুল (৬৫), অহেদুল ইসলাম বাবলুর ছেলে রাসেল মিয়া (৩৬), তানভীর ইসলাম তুরাগ (৩২), আমিনুল ইসলাম মুকুলের স্ত্রী তুলি (৪৮) ও অহেদুল ইসলাম বাবলুর স্ত্রী রেজিয়া সুলতানা (৪৫)।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই দুই পরিবারের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন দুপুরে বিবাদীরা বিতর্কিত জমিতে জোরপূর্বক গাছের চারা রোপণ করতে যান। এতে মনোয়ারা বেগম বাধা দিলে প্রতিপক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয়। মারধরের একপর্যায়ে মায়ের চিৎকারে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ছেলে মামুনুর রশিদ ও দেবর রমজান আলীকেও পিটিয়ে জখম করা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, মারধরের সময় আসামিরা তাঁর কাপড় টেনে শ্লীলতাহানি করে এবং কানের স্বর্ণের দুল ও গলার চেইনসহ প্রায় ১৮ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক দখলচেষ্টার কারণেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ ঘটেছে। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন জানান, উভয় পক্ষ থেকেই লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
১২২ বার পড়া হয়েছে