সর্বশেষ

সারাদেশ

ত্রিশালে জরাজীর্ণ ব্রিজে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার, পাশে নতুন ব্রিজও বন্ধ

আওলাদ হোসেন রুবেল, ময়মনসিংহ
আওলাদ হোসেন রুবেল, ময়মনসিংহ

বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:৪৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার পোড়াবাড়ি এলাকায় খীরু নদীর ওপর পুরোনো ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটির বেহাল দশার কারণে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে। এরই মধ্যে নদীর পাশে নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত আইনি জটিলতায় সেটি চালু করা যাচ্ছে না। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুরোনো ব্রিজ দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার পোড়াবাড়ি এলাকায় খীরু নদীর ওপর নির্মিত পুরোনো ব্রিজটি এখন স্থানীয় মানুষের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, দিনমজুর, ভ্যানচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্রিজটির কারণে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। কেউ হারিয়েছেন স্বজন, আবার কেউ দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্থানীয়রা ব্রিজটির জরুরি সংস্কার এবং পাশের নতুন ব্রিজটি দ্রুত চালু করার দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি জানানো হলেও কার্যকর সমাধান হচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমার ভাইকে হারিয়েছি এই ব্রিজে! কিছুদিন পূর্বে এখানেই একটি ঘোড়াও মারা গিয়েছে। একের পর এক মানুষ পা হারিয়ে আজ পথে বসেছে।’ খীরু নদীর ওপর থাকা এই ব্রিজের জরাজীর্ণ অবস্থায় কত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার হিসাব নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

স্থানীয় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবিদ জানায়, একদিন সাইকেল নিয়ে সে ব্রিজে পড়ে গিয়েছিল। তার ভাষায়, ‘এখন ব্রিজটা ঠিক না করলে মুরুব্বিদের চলতে সমস্যা হয়। আমরাও যাইতে পারি না।’

স্থানীয় বাসিন্দা হাবিব মিয়া বলেন, দেশে তিনটি সরকার পরিবর্তন হলেও তাঁদের ভাগ্য কিংবা খীরু নদীর এই ব্রিজের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, ‘মানুষ হিসেবে আমরা সত্যিই দুঃখিত ও লজ্জিত। আমরা চাই বর্তমান সরকার যেন অনতিবিলম্বে এই জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের কাজটা শেষ করে দেয়।’

ব্রিজটির কারণে শুধু সাধারণ পথচারী নন, স্থানীয় শিক্ষক ও সচেতন মহলও ভোগান্তিতে রয়েছেন। মঠবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের এক শিক্ষক, যিনি নিজেকে বর্তমান সরকারি দলের একজন কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন, বলেন, প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াতের সময় তাঁকে এই ব্রিজের ওপর দিয়ে যেতে হয়। দলীয় পরিচয় যা-ই থাকুক, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘এখানে প্রতিনিয়ত নানা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আমি চাই দ্রুততম সময়ে এই ব্রিজটির জরুরি সংস্কার করা হোক।’

জীবিকার প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি ব্যবহার করছেন দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ। স্থানীয় ভ্যানচালক রিপন মিয়া বলেন, ‘পেটের তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এই ব্রিজে ভ্যান চালাতে হয়। কত লোককে চোখের সামনে এই ব্রিজের কারণে পঙ্গু হয়ে যেতে দেখলাম! কিন্তু আমাদের এই দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরোনো ব্রিজের পাশেই নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও সেটি এখনো চালু হয়নি। ফলে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পরও তার সুবিধা পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী দায়সারা বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অন্যদিকে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসনাত জাহান খান বলেন, পুরোনো ব্রিজের পাশেই আরেকটি নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। তবে ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে সেটি চালু করা যাচ্ছে না।

ইউএনও বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে খুব দ্রুতই একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

স্থানীয়দের প্রশ্ন, নতুন ব্রিজ প্রস্তুত থাকার পরও আইনি জটিলতা নিরসনে আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে এবং ততদিন পুরোনো ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে আর কত মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হবেন।

তাঁদের দাবি, দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত আইনি জটিলতা নিরসন করে নতুন ব্রিজটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দিতে হবে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ব্রিজটির টেকসই সংস্কারেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০