সর্বশেষ

সারাদেশ

ফরিদপুরে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

আবিদ জামান, ফরিদপুর
আবিদ জামান, ফরিদপুর

সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:৩৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে সাবজেননেসা মহিলা কামিল (এমএ) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আলমগীর হোসাইনের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তাঁর অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অধ্যক্ষের কক্ষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে যৌন উত্তেজক ওষুধ ও সরঞ্জাম পাওয়ার অভিযোগও করেছেন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর শহরের পূর্বখাবাসপুর এলাকায় অবস্থিত সাবজেননেসা মহিলা কামিল (এমএ) মাদ্রাসার সামনের সড়কে দাঁড়িয়ে এ মানববন্ধন করেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

১৯৮৯ সালে ইসলামী শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে ফরিদপুর শহরের পূর্বখাবাসপুর এলাকায় মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। বর্তমানে আবাসিক সুবিধাসহ এখানে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী ও ৩০ জন শিক্ষক রয়েছেন।

২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর মো. আলমগীর হোসাইন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। এরপর থেকে বিভিন্ন বরাদ্দ, অনুদান ও টিউশন ফির অর্থ আত্মসাৎ করাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে বলে মানববন্ধনে শিক্ষকরা দাবি করেন।

শিক্ষকদের অভিযোগ, মাদ্রাসার সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দপ্তর থেকে দুই দফায় বরাদ্দ পাওয়া তিন লাখ টাকা, জেলা পরিষদের দেওয়া দুই লাখ টাকা, মন্ত্রণালয়ের অডিটের নামে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে উত্তোলন করা এক লাখ টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাদ্রাসার অনুদানের জন্য প্রকাশনী কর্তৃক বরাদ্দ করা এক লাখ ৪০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিএমএড প্রোগ্রাম থেকে বরাদ্দ করা অর্থ আত্মসাৎ, কোটেশন ছাড়া বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্যবই বিক্রিসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও করা হয়েছে।

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ একাধিক শিক্ষক আরও অভিযোগ করেন, ফাজিল প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে চাকরি ও অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়। গত ১৬ আগস্ট শিক্ষার্থীরা বিষয়টি হাতেনাতে ধরেন বলে তাঁদের দাবি। এ সময় অধ্যক্ষ ও ওই শিক্ষার্থীর মধ্যে কথোপকথনের একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটও ছড়িয়ে পড়ে বলে জানান তাঁরা।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অধ্যক্ষ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখান এবং লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলেও অভিযোগ করা হয়। পরে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ১৯ আগস্ট প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে মাদ্রাসা ত্যাগ করেন অধ্যক্ষ। এরপর থেকে তিনি আর মাদ্রাসায় ফেরেননি বলে শিক্ষকরা জানান।

এর মধ্যে ১৯ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ দেওয়া হয়।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (শিক্ষা ও কল্যাণ) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো প্রতিষ্ঠানটিতে যান। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মো. আমিনুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অধ্যক্ষের কক্ষের টেবিলের ড্রয়ার থেকে বিভিন্ন যৌন উত্তেজক ওষুধ ও সরঞ্জাম পাওয়া যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন বরাদ্দসংক্রান্ত নথিপত্রও পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

মানববন্ধনে এক প্রভাষক অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ আলমগীর হোসাইনের নৈতিক সমস্যা রয়েছে এবং তাঁর কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানের কেউ নিরাপদ নন। তাঁর অভিযোগ, মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এবং আবাসিক হোস্টেলে সহকারীর দায়িত্ব দিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানো হয়। বিভিন্ন সময় ওই শিক্ষার্থীকে অধ্যক্ষের কক্ষে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটানো হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি হাতেনাতে ধরেন এবং হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের একাধিক প্রমাণ পাওয়া যায় বলে দাবি করেন ওই শিক্ষক।

একাধিক শিক্ষার্থীও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কুপ্রস্তাব দেওয়ার এবং শ্রেণিকক্ষে কৌশলে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়ার অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগ তুলে তাঁরা দ্রুত অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করেন।

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘একজন অধ্যক্ষের কক্ষে যখন যৌন উত্তেজক ওষুধ পাওয়া যায়, তখন তাঁর কতটা অধঃপতন হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’ তাঁর দাবি, অধ্যক্ষের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একাধিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় তিনি অধ্যক্ষের দ্রুত অপসারণ দাবি করেন।

তবে এসব অভিযোগকে ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন অধ্যক্ষ মো. আলমগীর হোসাইন। অভিযোগে থাকা শিক্ষার্থী সম্পর্কে তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি শিক্ষার্থী হওয়ার পাশাপাশি মাদ্রাসার হোস্টেল সুপার। তাই হোস্টেলের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য তাঁর সঙ্গে নিয়মিত কথা ও যোগাযোগ হতো। বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মধ্যে কথা হওয়াটা স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (শিক্ষা ও কল্যাণ) ইনসানা তানজীন ইকো বলেন, ‘অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্তাধীন রয়েছে।’

১২৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০