সর্বশেষ

সারাদেশ

এক দশকেও হয়নি সংস্কার, ভাঙা সড়ক ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত নওগাঁ পৌরবাসী

মামুনুর রশীদ বাবু, নওগাঁ
মামুনুর রশীদ বাবু, নওগাঁ

শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:৫৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
নওগাঁ পৌর এলাকায় গত এক দশক ধরে সংস্কারহীন পড়ে থাকা ভাঙা সড়ক ও তীব্র জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একদিকে খানাখন্দ আর অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম বন্যা, অন্যদিকে নতুন করে বাড়ানো হয়েছে করের বোঝা। নাগরিক সেবার এই বেহাল দশায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।

নওগাঁ পৌরসভার প্রায় ৮০ শতাংশ সড়কের পিচ ও বিটুমিন উঠে গিয়ে চরম বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে তাজের মোড়, কালীতলা, পালপাড়া, সুলতানপাড়া, গোস্তহাটির মোড়, উকিলপাড়া ও চকবাড়িয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সড়কগুলো এখন চলাচলের অযোগ্য। কোথাও বড় বড় গর্ত, আবার কোথাও সামান্য বৃষ্টিতেই জমছে হাঁটুপানি। এতে রিকশা বা অটোরিকশার মতো যানবাহনগুলো চলাচল করতে অপরাগতা প্রকাশ করছে, যার ফলে দুর্ভোগে পড়ছেন গর্ভবতী নারী, রোগী ও বয়স্ক নাগরিকেরা।

শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিও এই বেহাল সড়কের কারণে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের পোশাক নোংরা হওয়া এবং সময়মতো ক্লাসে পৌঁছাতে না পারার নিত্যদিনের সংকটে ভুগছে তারা। স্থানীয় রিকশাচালকরা জানান, সড়কগুলোর গর্তে জমে থাকা পানির গভীরতা বোঝা না যাওয়ার কারণে প্রায়ই তাদের যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে এবং নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রাংশ।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ৩৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় প্রায় দুই লাখ বাসিন্দা বাস করেন। এখানকার মোট ৩০০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ১৫০ কিলোমিটার পাকা, ৫০ কিলোমিটার আধাপাকা এবং ১০০ কিলোমিটার কাঁচা। তবে এই বিশাল সড়ক নেটওয়ার্কের বড় একটি অংশই বর্তমানে সংস্কারের জন্য উপযুক্ত বাজেট ও সঠিক নজরদারির অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে।

ভোগান্তির আগুনে ঘি ঢালার মতো সম্প্রতি পৌরসভার পক্ষ থেকে আগামী ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স এবং পানির বিল বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কর পরিশোধের বিনিময়ে নাগরিকেরা ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, পর্যাপ্ত সড়কবাতি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দ্রুত সমাধান দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক টি.এম.এ. মমিন জানান, আইন অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পর পর কর পুনর্নির্ধারণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, শহরের সড়ক অবকাঠামোর মান বাড়াতে ইতোমধ্যে ১১টি সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে এবং বাকি রাস্তাগুলোও দ্রুতই পর্যায়ক্রমে সংস্কারের আওতায় আনা হবে।

১২০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০