কলাপাড়ায় প্রাথমিক শিক্ষায় চরম বিশৃঙ্খলা, ১০৮ স্কুলে নেই প্রধান শিক্ষক
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:১৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে চরম বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে। সরকারি অর্থ বরাদ্দ ও উপবৃত্তি দেওয়ার পরও তদারকির অভাব এবং শিক্ষক সংকটের কারণে ঝরে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। উপজেলার ১৭১টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০৮টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় ভেঙে পড়েছে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম।
সরেজমিনে কলাপাড়া উপজেলার ১৫১ নম্বর বাদুরতলী (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় এক করুণ চিত্র। ক্লাস চলাকালীন প্রধান শিক্ষকের কক্ষটি ফাঁকা পড়ে রয়েছে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করছে। দীর্ঘ এক যুগেও বিদ্যালয়টিতে কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এবং প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির কক্ষে শিশুদের জন্য নেই কোনো আকর্ষণীয় শিক্ষা উপকরণ।
বিদ্যালয়টিতে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট চলছে। গত দেড় বছর ধরে একমাত্র নলকূপটি অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকলেও তা মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে শিশুরা পাশের বাড়ি থেকে পানি আনতে গেলে চরম দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের শৌচাগারটি তালাবদ্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে একই বিদ্যালয়ে কর্মরত প্রধান শিক্ষিকা স্থানীয় প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পুরো উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৭১টি। এর মধ্যে ১০৮টি বিদ্যালয়েই কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। এছাড়া সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ রয়েছে ৪২টি। খোদ উপজেলা শিক্ষা অফিসেই কর্মকর্তাদের ৫টি পদ শূন্য পড়ে থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
কর্তব্যরত অবস্থায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনুমতি ছাড়া বিদেশে অবস্থান করায় তিন সহকারী শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং অনুমোদনহীন অনুপস্থিতির জন্য একজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার আসামি হওয়ায় আরও চারজন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে প্রশাসন।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা. সাহিদা বেগম জানান, শিক্ষক ও জনবল সংকটের বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো পূরণের লক্ষ্যে সহকারী শিক্ষকদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিদ্যালয়ে শতভাগ উপস্থিতি এবং শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে বলেও তিনি দাবি করেন।
১৩৮ বার পড়া হয়েছে