ঈদে বাড়ি ফিরে বিয়ে করার কথা ছিল শরিফুলের, ফিরল লাশ
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২:৪২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মালয়েশিয়ায় একটি নির্মাণাধীন ড্রেনে কাজ করার সময় মাটি চাপায় শরিফুল ফকির (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার এই তরুণের আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও নিজ গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। আগামী কুরবানির ঈদে বাড়ি ফিরে বিয়ে করার স্বপ্ন ছিল তাঁর, কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন এক বুক কান্নায় পরিণত হয়েছে।
নিহত শরিফুল ফকির গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের বর্ণি গ্রামের নজরুল ফকিরের সেজো ছেলে। চার বছর আগে পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে এবং সচ্ছলতা ফেরাতে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে এখন দিশেহারা তাঁর বৃদ্ধ পিতা-মাতা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টায় মালয়েশিয়ায় ড্রেন নির্মাণের কাজ করার সময় পাশের কেটে রাখা মাটি ধসে পড়ে শরিফুলের ওপর। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পথেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও শরিফুল তাঁর ফুফু ও ভাইয়ের সঙ্গে মুঠোফোনে শেষবারের মতো কথা বলেছিলেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শরিফুলের মা নাসিমা বেগম জানান, ছেলেটি কথা দিয়েছিল আগামী কুরবানির ঈদে বাড়ি ফিরবে। তাঁর বিয়ের জন্য নতুন ঘর গোছানোর কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু এক নিমেষেই সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল। তাঁর হাসিখুশি ছেলের এমন করুণ মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না পরিবারটি।
নিহতের বাবা নজরুল ফকির জানান, শরিফুলের পাঠানো উপার্জনেই চলত তাঁদের পুরো পরিবার। তিনি সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন, যেন তাঁর ছেলের মরদেহটি দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। শেষবারের মতো ছেলের মুখটি দেখতে ব্যাকুল হয়ে আছেন পুরো গ্রামবাসী।
এ বিষয়ে বর্ণি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর কবির জানিয়েছেন, তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানীকে জানানো হয়েছে এবং তিনি এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
১৩২ বার পড়া হয়েছে