হারিয়ে যাচ্ছে দেশি মাছ, হুমকির মুখে কিশোরগঞ্জে হাওরাঞ্চলের জীবিকা
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:৫৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। এর সঙ্গে প্রভাবশালী ইজারাদারদের দৌরাত্ম্য ও জলমহাল ইজারা ব্যবস্থার বৈষম্যের কারণে চরম সংকটে পড়েছেন স্থানীয় জেলে পরিবারগুলো। জীবন-জীবিকার তাগিদে অনেকেই বাপ-দাদার পৈতৃক পেশা ছেড়ে বেছে নিচ্ছেন অন্য পথ।
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার চং নোয়াগাঁও গ্রামের জেলেপল্লীতে এখন আর আগের মতো প্রাণচাঞ্চল্য নেই। একসময় যেখানে শতাধিক পরিবার হাওরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত, সেখানে এখন কোনোমতে টিকে আছে মাত্র ২০ থেকে ২৫টি পরিবার। বাকিরা পৈতৃক ভিটে ছেড়ে ঢাকার তৈরি পোশাক কারখানা, রিকশা চালানো বা দিনমজুরের কাজ বেছে নিয়েছেন। হাওরে মাছ কমে যাওয়া এবং জলমহাল ইজারা ব্যবস্থার সিন্ডিকেটই তাদের এই চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, হাওরের জলমহালগুলো মৎস্যজীবী সমিতির নামে ইজারা নেওয়া হলেও পর্দার আড়ালে তা নিয়ন্ত্রণ করে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। সাধারণ জেলেরা নদীতে জাল ফেলতে গেলে ইজারাদারদের বিশাল অঙ্কের টাকা দিতে হয়। নিকলী উপজেলার দামপাড়া জেলেপল্লীর জেলেরা জানান, দৈনিক ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা ইজারাদারকে দেওয়ার পর তাদের অবশিষ্ট আয় দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এই মৎস্য সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে ঐতিহ্যবাহী বালিখলা পাইকারি মাছের বাজারে। ব্যবসায়ীরা জানান, আগে যেখানে দৈনিক দেড় থেকে দুই কোটি টাকার মাছ লেনদেন হতো, এখন তা নেমে এসেছে ৫০ লাখ টাকারও নিচে। চায়না দুয়ারী জাল, রিং জাল ও কৃষিজমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে রানি, টেংরা, আইড় বা বড় চিংড়ির মতো সুস্বাদু দেশি মাছগুলো এখন বিলুপ্তির পথে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, হাওরের জলাশয় ও নদী-নালা ভরাট হয়ে যাওয়ায় মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় নদী খননের জন্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জেলেদের ক্ষতিকর জাল ব্যবহার বন্ধে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
১৩৪ বার পড়া হয়েছে