গোদাগাড়ীর ইউপি চেয়ারম্যান পদ ফিরে পেলেন হজরত আলী
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৪:৪০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ৫ নম্বর গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির বিরুদ্ধে দীর্ঘ পাঁচ বছরের আইনি লড়াইয়ে অবশেষে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হজরত আলী। রাজশাহীর নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল পূর্ববর্তী গেজেট বাতিল করে তাকে বিজয়ী ও বৈধ চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে স্থানীয় ভোটারদের প্রকৃত রায়ের প্রতিফলন ঘটল।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ৫ নম্বর গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ নিয়ে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার অবসান ঘটেছে। রাজশাহী সদর সিনিয়র জজ আদালত ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল এক রায়ে ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফল বাতিল করে আবেদনকারী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হজরত আলীকে নতুন চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন। একই সাথে নির্বাচন কমিশনকে এই রায় সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. মজিবুর রহমানের সাথে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হজরত আলীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। নির্বাচনের পর মজিবুর রহমানকে মাত্র ৮৭ ভোটে বিজয়ী দেখিয়ে সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছিল।
নির্বাচনের পর থেকেই কারচুপির অভিযোগ তুলে আসছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হজরত আলী। তার অভিযোগ অনুযায়ী, ফরাদপুর সবুজ সংঘ ও পাবলিক লাইব্রেরি কেন্দ্রে পরিকল্পিতভাবে ভোটের হিসাব পরিবর্তন করা হয়। ওই কেন্দ্রে আনারস প্রতীকে তিনি ১ হাজার ২৭০ ভোট পেলেও ফলাফলে তা কমিয়ে ৯৭০ দেখানো হয়। অন্যদিকে নৌকা প্রতীকের প্রাপ্ত ৬৩৫ ভোটকে বাড়িয়ে ৯৩৫ লিখে ফলাফল নথিবদ্ধ করা হয়।
আদালতে দাখিল করা নথিতে হজরত আলী উল্লেখ করেন, ইউনিয়নের মোট ১০টি voteকেন্দ্রে সামগ্রিক ফলাফলে তিনি ৯ হাজার ৮০১ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মজিবুর রহমান পেয়েছেন ৯ হাজার ২৮৭ ভোট। সেই হিসেবে ৫১৪ ভোটের ব্যবধানে তিনিই জয়ী হওয়ার কথা ছিল।
নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণের পর বিজ্ঞ আদালত মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। হজরত আলীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ জানান, কারচুপির সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত পূর্বের গেজেটটি বাতিল ঘোষণা করেছেন এবং প্রকৃত বিজয়ীকে তার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন।
রায় ঘোষণার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নবঘোষিত চেয়ারম্যান হজরত আলী বলেন, ভোটাররা তাকে বিপুল ভোটে জয়ী করলেও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাকে পরাজিত দেখানো হয়েছিল। দীর্ঘ ৫ বছর পর আদালতের রায়ের মাধ্যমে তিনি ও তার ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ ন্যায়বিচার ফিরে পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
১০৯ বার পড়া হয়েছে