ফরিদপুরে সালিশে আত্মীয় ডাকার 'অপরাধে' একঘরে পুরো পরিবার, মসজিদে নামাজেও বাধা!
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ৫:৪৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের সালিশ বৈঠকে বহিরাগত আত্মীয়দের উপস্থিত করার জেরে একটি পরিবারকে সমাজচ্যুত বা একঘরে করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় মাতুব্বরদের ফতোয়া ও নিষেধাজ্ঞার কারণে ভুক্তভোগী ওই পরিবারের সদস্যদের স্থানীয় মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করাও বন্ধ হয়ে গেছে। গত ২১ আগস্ট চর নওপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর নওপাড়া গ্রামের প্রয়াত আব্দুর রফিক শেখের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী ওসমান গণির জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত ৩০ জুলাই দ্বিতীয় দফায় একটি সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে রফিক শেখের ছেলেরা নিজেদের পক্ষে কথা বলার জন্য গ্রামের বাইরে থেকে কিছু আত্মীয়-স্বজনকে নিয়ে আসেন।
সালিশ বৈঠকে বাইরের লোক আসায় ক্ষিপ্ত হন স্থানীয় মাতুব্বররা। এর জের ধরে মাতুব্বর আবুল সরকার ও তাজ মোহাম্মদের নেতৃত্বে প্রথমে ৩১ জুলাই বৈঠক এবং পরবর্তীতে ২১ আগস্ট চর নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আরেকটি সভা ডাকা হয়। ওই সভায় রফিক শেখের পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাজচ্যুত বা একঘরে করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য খালিদ শেখ জানান, সালিশে আত্মীয় আনার কারণে মাতুব্বররা তাদের পুরো পরিবারকে সমাজচ্যুত করেছেন। এখন সমাজের কারও সাথে কথা বলা বা সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়া তো দূরের কথা, মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার ওপরও কড়া নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার অভাবে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন রফিক শেখের স্ত্রী শিমুল বেগম।
সমাজচ্যুত করার বিষয়টি স্বীকার করে মাতুব্বর আবুল সরকার দাবি করেন, না জানিয়ে সালিশে ৩০-৪০ জন বহিরাগত আনায় সবার সিদ্ধান্তে সামাজিক সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছে। তবে আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান এটিকে মানবাধিকারবিরোধী ও বর্তমান যুগে বেআইনি কাজ হিসেবে অভিহিত করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আল-আমিন জানান, প্রচলিত আইনের বাইরে গিয়ে বিচার করার অধিকার কারও নেই। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলেই দ্রুত তদন্ত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৩১ বার পড়া হয়েছে