সাতক্ষীরায় ঘেরের আইলে সবজি চাষে নীরব বিপ্লব, মাছে-ফসলে দ্বিগুণ লাভ
রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ৫:৫৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাতক্ষীরায় মাছের ঘেরের পতিত পাড় বা আইলে সবজি চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা। চলতি মৌসুমে জেলার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে এই সমন্বিত চাষাবাদ পদ্ধতি গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। মাছে ও সবজিতে দ্বিমুখী আয়ের মাধ্যমে ভাগ্য বদল করছেন শত শত চাষি।
সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার পথে চোখে পড়ে দিগন্তবিস্তৃত জলাশয় ও তার চারপাশের সবুজ সবজির খেত। একসময় ঘেরের যে আইল বা পাড়গুলোকে কেবল সীমানা নির্ধারণের জন্য ফেলে রাখা হতো, এখন সেখানে শোভা পাচ্ছে ফলনশীল নানা জাতের সবজি। স্থানীয় কৃষকদের হাত ধরে এই চাষপদ্ধতি বদলে দিচ্ছে অঞ্চলের চিরচেনা কৃষির চিত্র।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় মোট ৮৭৫ হেক্টর ঘেরের পাড়ে এই সমন্বিত আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ৩৪০ হেক্টর, তালায় ১৬৫ হেক্টর, কালীগঞ্জে ১৩৫ হেক্টর, আশাশুনিতে ৮০ হেক্টর, শ্যামনগরে ৮০ হেক্টর, কলারোয়ায় ৫৫ হেক্টর এবং দেবহাটা উপজেলায় ২০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। হেক্টরপ্রতি গড় উৎপাদন ১৯ টন ধরে এবার প্রায় ১৬ হাজার ৬২৫ মেট্রিক টন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জলাশয়ের পানিতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ হচ্ছে, আর তার ওপরের মাচায় ঝুলছে লাউ, চালকুমড়া, করলা ও বরবটির মতো সবজি। আইলের সমতল অংশে চাষ করা হয়েছে ঢেঁড়স, পুঁইশাক ও কলা গাছ। স্থানীয় চাষিদের কাছে ‘সাথি ফসল’ হিসেবে পরিচিত এই সমন্বিত চাষ পদ্ধতি এখন গোটা জেলায় দারুণ জনপ্রিয়।
তালা উপজেলার বড়বিলা গ্রামের চাষি রশিদ আমিন জানান, আগে তিনি শুধু মাছের চাষ করতেন। এবার ৮০ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ করে ঘেরের তিন পাশের পাড়ে সবজি আবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই সবজি বিক্রি করে অতিরিক্ত দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তিনি।
তবে এই বিপুল ফলনে খুশি হলেও বাজারজাতকরণ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক কৃষক। চাষিদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে পাইকারদের কাছে যে সবজি প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে, খুচরা বাজারে সাধারণ ক্রেতাদের তা কিনতে হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। সরাসরি বড় বাজারে পৌঁছানোর সুযোগ না থাকায় কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, উৎপাদিত লাউ, শিম, শসা ও বরবটি ইতোমধ্যে বাজারে আসতে শুরু করেছে এবং কৃষকেরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। দেশের বড় বড় বাজারে সরাসরি পণ্য পাঠানোর সুব্যবস্থা এবং সঠিক বাজার তদারকির মাধ্যমে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৩৫ বার পড়া হয়েছে