মানিকগঞ্জে শতবর্ষের পথ বন্ধ করে গেট: অবরুদ্ধ ১৫ পরিবারের আর্তনাদ
রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ৫:০০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মানিকগঞ্জ সদরের কাকজিনগরে শত বছরের পুরোনো একটি যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক স্থানীয় বাসিন্দার বিরুদ্ধে। স্টিলের গেট নির্মাণ করে পথটি অবরুদ্ধ করায় চরম বিপাকে পড়েছেন ১৫টি পরিবারের অর্ধশতাধিক মানুষ। স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ বিষয়টি অবগত হলেও এখনো মেলেনি কোনো স্থায়ী সমাধান।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দিঘি ইউনিয়নের কাকজিনগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সাধারণ পথ দিয়ে যাতায়াত করছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রয়াত তোফাজ্জল হোসেন খান একসময় গ্রামবাসীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য মৌখিকভাবে এই জমিটি ছেড়ে দিয়েছিলেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকুরিজীবী ও বৃদ্ধসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ এই পথটি ব্যবহার করে আসছিলেন।
অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি তোফাজ্জল হোসেন খানের ছেলে মোকতার খান পৈতৃক সম্পত্তির দাবি তুলে ওই শতবর্ষী রাস্তার মুখে একটি স্টিলের গেট নির্মাণ করেছেন। এর ফলে যাতায়াতের একমাত্র পথটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ভেতরে থাকা প্রায় ১৫টি পরিবারের অর্ধশতাধিক বাসিন্দা এখন অবরুদ্ধ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দৈনন্দিন ও জরুরি প্রয়োজনে তাঁদের ঝোপঝাড়ের মধ্য দিয়ে কষ্ট করে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল রহমান জানান, শৈশব থেকেই তিনি এই পথটি দেখে আসছেন। তোফাজ্জল হোসেন খান সানন্দে গ্রামবাসীকে পথটি ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর উত্তরসূরিরা তা হঠাৎ বন্ধ করে দিয়েছেন। অপর এক বাসিন্দা জানান, এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও অভিযুক্তরা তা অমান্য করে শেষ পর্যন্ত পথটি আটকে দিয়েছেন।
তবে অভিযুক্ত মোকতার খান এবং তাঁর ভাই আকতার খান এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, পৈতৃক সম্পত্তি ভাগবাটোয়ারা হওয়ার পর তাঁদের নিজস্ব জমির পরিমাণ কমে গেছে। বর্তমান परिस्थितियों নিজেদের জায়গায় রাস্তা ছেড়ে দিলে তাঁদের পক্ষে ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে আইনগত দিক তুলে ধরে মানিকগঞ্জ জজ কোর্টের আইনজীবী খন্দকার সুজন হোসেন বলেন, আইন অনুযায়ী কোনো রাস্তা যদি ২০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে কোনো বাধা ছাড়াই সাধারণ মানুষ ব্যবহার করে থাকে, তবে সেখানে জনগণের ব্যবহারের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। মালিকানা যারই হোক না কেন, এভাবে দীর্ঘদিনের পথ বন্ধ করা একটি দেওয়ানি ও ফৌজদারি অপরাধ।
এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী নাসরিন জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষের সাথে কথা বলেছেন। যেহেতু তাঁরা নিজেদের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা দিতে রাজি নন, তাই অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর জন্য পাশ দিয়ে একটি বিকল্প রাস্তা তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নতুন এই রাস্তা নির্মাণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
১২৮ বার পড়া হয়েছে