কন্যাসন্তান হওয়ায় স্ত্রীকে হত্যা: নওগাঁয় স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬ ১:৪২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
নওগাঁয় পারিবারিক কলহ এবং কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার জেরে স্ত্রী হালিমা খাতুনকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার অপরাধে স্বামী শামীম সরদারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নওগাঁর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান আসামির উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। একই সাথে আদালত আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।
আদালতের মামলার বিবরণ ও নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দোহালী কোয়ালীপাড়া গ্রামের শামীম সরদারের সাথে হালিমা খাতুনের বিয়ে সম্পন্ন হয়। দাম্পত্য জীবনের একপর্যায়ে হালিমা একটি কন্যাসন্তান জন্ম দিলে শামীম সেই সন্তানকে নিজের বলে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর থেকেই নবজাতক ও স্ত্রীর ওপর শুরু হয় চরম অবহেলা এবং প্রতিনিয়ত চলতে থাকে পারিবারিক নির্যাতন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে। ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর শামীম তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে কন্যাসন্তানটিকে রেখে স্ত্রী হালিমা খাতুনকে নিয়ে নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। এরপর থেকেই হালিমার পরিবারের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে নানা তালবাহানা ও অজুহাত দেখাতে থাকেন শামীম। পরবর্তীতে ২৯ ডিসেম্বর নওগাঁ সদর থানার তিলকপুর ইউনিয়নের একটি ধানখেত থেকে হালিমার রক্তাক্ত ও গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার সুনির্দিষ্ট তদন্ত শেষ করে ২০২২ সালের ১৩ মার্চ আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিলে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মামলা চলাকালীন মোট ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ আইনি শুনানি শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোঃ শাহরিয়ার এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোঃ এমরান হোসেন। রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, এই রায়ের মধ্য দিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার অবশেষে কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পেয়েছে এবং সমাজে আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
১০৬ বার পড়া হয়েছে